রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা করা হচ্ছে: র‌্যাব

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গতকাল সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান- পঙ্গু হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান পরিচালনা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-২ (র‌্যাব) এর উপ-অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খালিদুল হক। এ সময় তিন হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন দালালকে আটক ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডও করা হয়।
র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য যেসব রোগী আসেন তারা দালাল চক্রের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন। এই দালালদের দৌরাত্ম্য ও রোগীদের হয়রানির বিরুদ্ধে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, গত ৪ঠা মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তিতে দালাল নির্মূলে সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দফা রয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দালালের বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান পরিচালনা করা। ফৌজদারি অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আমরা সেটাই করছি। তিনি বলেন, আমরা তিনটি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে ২০ জন দালালকে আটক করেছি এবং বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এই দালালরা এখানে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছিল। রোগীদের হয়রানির মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা গ্রহণে সহযোগিতা না করে তাদেরকে অন্য হাসপাতালে, অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এটা ফৌজদারি অপরাধ। যদি কোনো দালাল এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর বা অবৈধভাবে কোনো ক্লিনিকে অপচিকিৎসার মাধ্যমে অঙ্গহানি বা চিকিৎসার নামে বিদেশে পাচার করে, তাহলে ওই দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা এবং ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে যেসব দালালচক্র রোগীদের হয়রানি করে বা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে- এমন দালালদের বিরুদ্ধে আমরা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের তালিকা তৈরি করছি; যেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়। যদি কোনো হাসপাতালের কর্মচারী, ওয়ার্ড বয় বা অন্য কেউ জড়িত থাকে- সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে এবং আমরা আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবো। দালালচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে।
এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমরা বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিকের নাম পেয়েছি যাদের মাধ্যমে দালাল চক্রটা পরিচালিত হয়। তাদের বিরুদ্ধেও আমরা পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, আমরা আজ এখানে দালালের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন অভিযোগে ২০ জনকে আটক করেছি। তাদের মূলত অভিযোগগুলো হচ্ছে- রোগীদের মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারণা করার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন টেস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা। তিনি বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছি। তার মধ্যে একটি বিষয় হচ্ছে আমরা বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিকের নাম পেয়েছি, যাদের মাধ্যমে দালাল চক্রটা পরিচালিত হয়। তাদের বিরুদ্ধেও আমরা পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। এই হাসপাতালের অতীতের কিছু কর্মচারীকে আমাদের আভিযানিক দল হাতেনাতে ধরেছে। যারা এই মুহূর্তে হাসপাতালে যুক্ত নয় কিন্তু তারা এখানে দালালি সহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের অনেককেই আমরা আজকে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন