সয়াবিন তেলের দাম ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা

সয়াবিন তেলের দাম ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন সীমিত পরিমাণে সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে কোম্পানিগুলো। বেশির ভাগ দোকানেই বোতলজাত তেল কম পাওয়া যাচ্ছে, আবার অনেক মহল্লার দোকানে এটি একেবারেই মিলছে না। একইসঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে লিটারপ্রতি খোলা তেলের দাম চার থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা অর্ডার করেও কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ও মুদি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও অধিকাংশ জায়গায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিলছে না।
কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা সরবরাহ আগের মতো স্বাভাবিক রেখেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ ঘিরে দাম বাড়তে পারে- এই আশঙ্কায় চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। যে কারণে সংকট হতে পারে।
ওদিকে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, যুদ্ধ ও ঈদের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো। প্রতিবারই দাম বাড়ানোর আগে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
মুদি দোকানি জামাল হোসেন বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কোম্পানিগুলো ঠিকমতো তেল দিচ্ছে না। আমরা কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে শুনেছি তেলের দাম বাড়বে। নতুন দাম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ সমস্যা থাকবে।
আরেক দোকানি রাহিম মোল্লা বলেন, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর আগে প্রতিবার এমন করে। এটা ওদের স্টাইল হয়ে গেছে। এখন অর্ডার নিচ্ছে না। বারবার তাগাদা দিলে ৩-৪ কার্টনের জায়গায় এক কার্টন দেয়। কাওরান বাজারের আব্দুর রব স্টোরের স্বত্বাধিকারী নাঈম বলেন, পাঁচ কার্টন তেল চাইলে ডিলাররা এক কার্টন দেন। পাশাপাশি লিটারপ্রতি তিন থেকে চার টাকা দামও বাড়ানো হয়েছে। বোতলজাত তেলের স্বল্পতায় সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে খোলা তেলের দাম লিটারে বেড়েছে চার থেকে সাত টাকা। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৬ থেকে ১৭৮ টাকা। প্রতি লিটার পাম অয়েলের সরকার নির্ধারিত দাম ১৬৬ টাকা হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি দরে। ডিলারদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। কাওরান বাজারে তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল পাওয়া যেতো, সেখানে শনিবার তিনি মাত্র ৫০ কার্টন পেয়েছেন।
অন্যদিকে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন স্থানে ভোজ্য তেল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দামও সম্প্রতি বেড়েছে।
তবে মেঘনা গ্রুপের সহকারী সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার জানান, তাদের কারখানায় পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নানা অজুহাতে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি ঈদ সামনে রেখে বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন