লবী রহমান’স কুকিং ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন মাহবুবা চৌধুরীসহ ৪ জন

লবী রহমান’স কুকিং ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন মাহবুবা চৌধুরীসহ ৪ জন

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে লবী রহমান’স কুকিং ফাউন্ডেশন গুণী ও সফল ৪ ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা দিয়েছে। রোববার ঢাকার ধানমণ্ডি ভ্যালিস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। দেশের জাতীয় দৈনিকের প্রথম নারী সম্পাদক দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক ও প্রকাশক মাহবুবা চৌধুরীসহ সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা। এসময় এই চার গুণী ব্যক্তিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- মানবজমিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহবুবা চৌধুরী, অভিনেত্রী আলিয়া ফেরদৌসী, উদ্যোক্তা সাবিনা স্যাবি, পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী। এছাড়াও উপদেষ্টা ও উৎসাহভিত্তিক সম্মাননা পেয়েছেন ফাউন্ডেশনের কয়েকজন নারী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন লবী রহমান’স কুকিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি লবী রহমান। তিনি বলেন, আমরাও পারি নারীরা কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে যাচ্ছেন। তবে শুধু কাজ করলে হবে না এর প্রতিদান বা স্বীকৃতি যদি না মিলে তাহলে আরও ভালো কিছু করার উৎসাহ থাকে না। এমন চিন্তা থেকেই গুণীদের সম্মাননা দিচ্ছে লবী রহমান’স কুকিং ফাউন্ডেশন।

মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী বলেন, সাহস নিয়ে কাজ করে নারীরা অনেকে সফল হয়েছেন। তারা নানা ক্ষেত্রে কাজ করছেন। বিশ্ব নারী দিবসে আমাদের সেøাগান ‘আমি নারী, আমি পারি।’ আমি নারী আমাকে কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ জায়গা করে দিবে না, জায়গাটি কিন্তু আমাকেই করে নিতে হবে। পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হবে। লবী রহমান রান্নাকে একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, এজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ এবং অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রান্নাকে একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এর পেছনে কিন্তু অনেক শ্রম এবং একাগ্রতা আছে, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এছাড়া সফল বা উদ্যোক্তা নারীদের একত্রিত করে এই যে একটা সুন্দর প্ল্যাটফরম তৈরি করা এটাও তার একটা শিল্প। তিনি নিজের কাজের পাশাপাশি কাজ করা অন্যদেরও স্বীকৃতির, সম্মাননার চিন্তা করেন। তিনি বলেন, কারও মনে যদি সুপ্ত বাসনা থাকে যে আমি এটা করবো, তার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তার ভেতরে যদি কর্মস্পৃহা থাকে তবে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

ছোটবেলা থেকেই নিজের পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন থেকেই আমি বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করতাম, বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে যেতাম। সেই থেকেই আমার পত্রিকার সঙ্গে একটি সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। সারাজীবন আমি স্বপ্ন দেখতাম যে, কোনো একদিন আমি যদি সাংবাদিক হতে পারি। যাকে আমি জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি তার উৎসাহ, অনুপ্রেরণা না পেলে এই দীর্ঘ সময় মানবজমিনকে টেনে নিতে পারতাম না। আমি বাংলাদেশের দৈনিকের প্রথম নারী সম্পাদক। আত্মীয়-স্বজন সবাই বলেছিল, এত ঝুঁকি নিবে, কিন্তু আমি কখনো পিছপা হইনি। নারীদের গোল ঠিক করতে হবে, আমি করতে চাই এবং সেটা করতে হবে মন-প্রাণ এবং মেধা দিয়ে। তাহলে কেউ কখনো আটকে রাখতে পারবে না। সম্মাননাপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আলিয়া ফেরদৌসী বলেন, আমি এখানে এসে খুব গর্ব বোধ করছি। লবী রহমান অনেক কিছু হারিয়েছে কিন্তু পেয়েছে অনেক কিছু। এই ফাউন্ডেশনটা যে করেছে সে নারী, তার ভেতরে যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তার বিগত দিনের সঙ্গী।

উদ্যোক্তা সাবিনা স্যাবি বলেন, একজন নারী মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে কখনো কিন্তু ভালো কিছু করতে বা সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না। তার কাজকর্ম ঠিকমতো করতে পারবে না। পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, ২০০৮ সালে লবী রহমানের সঙ্গে আমার পথ চলা। একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে তার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যে মন-মানসিকতা এটি আসলে খুব কম। নারী যেন নারীর কাজে বাধা না হয়। আমি মনে করি একজন নারী, নারীর পাশে থাকলে অনেক দূরে এগিয়ে যেতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন