সরকারি লিজের জমি বিক্রি করায় সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার সরকারি লিজের জমি অবৈধভাবে বিক্রি ও ব্যাংকে বন্ধক রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম সদরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ মামলাটি দায়ের করেন। প্রধান কার্যালয়ের দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- বি কে টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ এবং চট্টগ্রাম সদর সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মো. আবু তালিব খান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার প্লট নম্বর ২৩৩, ২৩৩এ, ২৩৪ ও ২৩৪এ এর মোট ৫ দশমিক ২০ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য পাকিস্তান অক্সিজেন লিমিটেডের নামে লিজ দেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচালিত হচ্ছে। লিজ চুক্তি অনুযায়ী জমিতে শিল্প গ্যাস উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কথা ছিল এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া জমি বিক্রি বা বন্ধক দেয়ার সুযোগ ছিল না।
দুদক জানায়, বাংলাদেশ অক্সিজেন লিমিটেড ২০০৫ সালে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিটি বি কে টেক্স লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হস্তান্তরের অনুমতি দিলেও তা বিক্রয়ের অনুমতি ছিল না। এরপরও ২০০৯ সালে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ওই দলিল সংশোধনের জন্য একটি ঘোষণাপত্র দলিল সম্পাদন করা হয়। সেখানে বিক্রয় দলিলকে হস্তান্তর দলিল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ওই ঘোষণাপত্রে পূর্বের দলিলদাতা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি বা কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। সরকার থেকে লিজ নেয়া জমি বিক্রির পাশাপাশি আসামি মো. হারুন অর রশিদ সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০১০ সালে একই জমি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের খাতুনগঞ্জ শাখায় তার অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত কোলেটারাল হিসেবে বন্ধক রাখেন। এ ছাড়া, বর্তমানে জমিটি তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির জন্য সমঝোতা স্মারক তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, সরকারি লিজের জমি অবৈধভাবে বিক্রি ও ব্যাংকে বন্ধক রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম সদরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন