জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সংসদ হবে প্রাণবন্তু এবং কার্যকর। বিরোধী দলকে সকল বিষয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার জনগণের সরকার। তাই সংসদে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। গতকাল সকালে নবনির্বাচিত হুইপদের নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা বীর শহীদদের স্বরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর তারা স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের সঙ্গে হুইপ জি কে গাউছ, রফিকুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন সংসদ অধিবেশন সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, আগামী ১২ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হবে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক। আমরা আশা করি, বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করবেন। আমাদের একটি প্রচলিত ধারণা আছে, সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত করতে হবে। কিন্তু এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। এখন থেকে সংসদকে শুধু “প্রাণবন্ত” করলেই হবে না, এটিকে কার্যকর করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে পার্লামেন্ট। সংসদকে কেন্দ্র করেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিরোধী দল থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই যা যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান। সংসদে বিরোধী দল কথা বলার সুযোগ পাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদে সবচেয়ে বেশি সুযোগ সাধারণত বিরোধী দলই গ্রহণ করে থাকে। সরকার সবাইকে নিয়ে চলতে চায়।
সরকারি দল ও বিরোধী দল-সবাইকে একমঞ্চে এনে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। জাতীয় সব বিষয়ে সংসদে বিতর্ক হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রথম অধিবেশনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে অনেক সময় অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদ বসলে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। বর্তমানে প্রায় ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স রয়েছে, যেগুলো সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব অর্ডিন্যান্স সংসদে উপস্থাপনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এগুলো নিয়ে সংসদে অনেক কাজ থাকবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সাভার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ কার্যকর হলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে: চিফ হুইপ
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
