মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হতে পারে, এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপ বাড়ানোয় রোববার পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে এক দিনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক কমেছে ২৩১ পয়েন্ট। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমেছে। আর বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসা চালানো নিয়ে শঙ্কা থেকে বাজারে দর পতন শুরু হয়েছে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় সারা বিশ্বেই পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি তো ভালো নেই মধ্যপ্রাচ্যর সংকটের কারণে। যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধের খবর। জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে কোম্পানি ব্যবসা করবে কেমনে, তাই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে। কে কিনবে, এমনিতেই ভালো কোম্পানি নাই।
রোববার ডিএসইতে লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭১টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯২টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়া ৭৮টি কোম্পানিরই শেয়ার দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০১টির। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত আছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়নি।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১৯ পয়েন্টে নেমে গেছে।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, শাহিনপুকুর সিরামিক, ইনটেক লিমিটেড এবং ইস্টার্ন ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৬৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৫টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
আতঙ্কে ডিএসই সূচক কমলো ২৩১ পয়েন্ট
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
