বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। সেই নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন প্যানেল জয়লাভ করে। তবে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর সেই নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিলেন তামিম ইকবালসহ ঢাকার ৪৫ ক্লাবের সংগঠক। গতকাল তারা এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (এনএসসি) বরাবর দেয়া এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শীর্ষ ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা। গত বছরের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তারা। বিশেষ করে ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের বড় একটি অংশ এই প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই বর্জন করেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ক্লাব সংগঠকরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা চাইছেন একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা যাচাই করতে। তারা মনে করছেন, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রসঙ্গে তারকা ক্রিকেটার ও সংগঠক তামিম ইকবাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অভিযোগ করার পর সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘আজকে আমরা একটা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে এসেছি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় যেটা, ৭৬টা ক্লাবের মধ্যে ৫০টা ক্লাব এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। এই নির্বাচনটা সঠিকভাবে হয়নি এটা প্রমাণ করার জন্য ৭৬টা ক্লাবের মধ্যে যদি ৫০টা ক্লাব একমত থাকে, এটাই তো অনেক কিছু প্রমাণ করে দেয়।’
অন্যদিকে তদন্তের দাবি নিয়ে ক্লাবের শীর্ষ সংগঠক মাসুদুজ্জামান গণমাধ্যমের কাছে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করছেন, বিগত সময়ে ক্রিকেটের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এনএসসিতে দেয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এনএসসিতে অভিযোগ দিয়েছি এবং বিগত দিনের সমস্ত ঘটনাবলী ওনাদের জানিয়েছি। আমরা একটি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছি। আমরা আসলে খেলার মাঠে ফিরে যেতে চাই। ক্রিকেটটা ক্রিকেটের মাঠে গড়া। অনেকদিন যাবৎ আমরা ক্রিকেটের মাঠ থেকে দূরে আছি। আমরা চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব কাজ হোক। বহু বছর পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, এখন আমরা সেই অনুযায়ী ক্রিকেটেও সুশাসন আশা করি। নির্বাচনটি স্বাধীনতার পর আগের যেকোনো নির্বাচনকে হার মানিয়েছে। এরকম বন্দোবস্ত করা হয়েছিল যে সাধারণ সংগঠকরা সেখানে যেতে পারেননি।’ এছাড়াও বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলরশিপ প্রদান এবং ভোটার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করছেন ক্লাব প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক ক্লাবের মতামতকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ পক্ষকে জয়ী করা হয়েছে। মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাবই যেখানে এই নির্বাচন মানছে না, সেখানে এটি এমনিতেই ইনভ্যালিড হয়ে যায়। কয়টি ভোট জোর করে দমন করা হয়েছে তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তখন বর্তমান বোর্ড আমাদের সঙ্গে বসার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা এই অবৈধ বোর্ডকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবো না। তারা কখনোই ক্লাব সংগঠকদের সঠিক সম্মান দেখায়নি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। লীগগুলো নিয়মিত না হওয়ায় ক্রিকেটাররা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্লাবগুলো খেলা বর্জন করায় মাঠের ক্রিকেট এখন অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতার মুখে পড়েছে।’
বর্তমান বোর্ডের ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘বিসিবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী লীগ শুরু করতে পারেনি, এটি তাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। অবৈধভাবে নির্বাচিত এই বোর্ডকে আমরা স্বীকৃতি দেইনি দেখেই খেলা বর্জন করেছি। তারা লিগ্যাল নোটিশের উত্তরও দেয়নি। তাদের অবহেলার কারণেই আজ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা ধাপে ধাপে সংগঠকদের অপমান করেছে। আমরা চাই একটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচিত হোক। ৫ই আগস্টের পর দেশের জাতীয় নির্বাচন সুন্দর হয়েছে, আমরা চাই ফেডারেশনগুলোতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা এই বোর্ডের এখন আর দায়িত্বে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো এবং ইনশাআল্লাহ ক্রিকেট সুন্দরভাবে মাঠে গড়াবে।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠি
বিসিবি নির্বাচন অবৈধ ঘোষণার দাবি তামিমের
স্পোর্টস রিপোর্টার
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

EVERGRREN
৩ মাস আগেদালাল