বয়স মাত্র ৩৩। পেশাদার ফুটবলে ক্যারিয়ারও তেমন সমৃদ্ধ নয়। খেলেননি কোনো জাতীয় দলেও। হেড কোচ হিসেবেও কোনো জাতীয় দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না তার। সেই কোত্রিনা কুলবিতেকেই ২০২৫ সালে নারী ফুটবল দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় উজবেকিস্তান। লিথুনিয়ার এই কোচের অধীনেই শ্রীলঙ্কা ও লাওসকে হারিয়ে আর নেপালের সঙ্গে ড্র করে এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পায় উজবেকিস্তান। চূড়ান্ত পর্ব খেলতে অস্ট্রেলিয়ার আসার আগে ভিয়েতনামের সঙ্গে দুটি ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলে দলটি। সেখানে জয় পায় কোত্রিনার শিষ্যরা। দারুণ স্মার্ট এই কোচ ইংলিশে কথাও বলেন বেশ স্পষ্ট। গতকাল পার্থের সংবাদ সম্মেলনেও যেমন কোনো প্রকার রাখঢাক না করেই বললেন আমরা শতভাগ প্রস্তুতি নিয়েই এখানে এসেছি। আমরা জিততে চাই। জেতার জন্যই মাঠে নামবো।’ বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারের আলাদা প্রংশসা করেন এই উজবেক কোচ। তবে বাংলাদেশের মতো শুরুটা ভালো হয়নি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৫ ধাপ এগিয়ে থাকা উজবেকিস্তানের। দুই প্রতিপক্ষ চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরেছে দুই দলই। টুর্নামেন্ট শেষ করার আগে দুই দলই একটি জয়ের খোঁজে আছে, যা হয়তো পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ দল নিয়ে কোত্রিনা কুলবিতেকে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গতিশীল দল। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা বেশ বিনয়ী। আমি তাদের খেলা দেখেছি, তাদের কিছু দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। আমাদের জন্য এটি সহজ ম্যাচ হবে না, কারণ এশিয়ান কাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। আমাদের লক্ষ্যের কথা বললে, অবশ্যই আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো। আর গাণিতিক সমীকরণের কথা বললে, সেটা এখন বলা কঠিন কারণ অন্য গ্রুপগুলোতেও অনেক খেলা বাকি। আজ (গতকাল) এ গ্রুপের খেলা আছে, আমাদের পর ‘সি’ গ্রুপের খেলা। যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। তবে আমরা যদি মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারি, তবে পরে পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকানো যাবে।’ দলের ইনজুরি সমস্যা নিয়ে এই কোচ বলেন, ‘আমরা প্রথম দুটি ম্যাচ কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছি। সেখানে আমাদের দু’একজন ইনজুরিতে পড়েছে। তার মানে এই নয় যে, সেই খেলোয়াড়দের বিকল্প নেই। আমাদের ২৬ জন খেলোয়াড় আছে যারা সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত। এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমরা পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কোন ম্যাচে কোন খেলোয়াড় খেলবে। এশিয়ান কাপের আগে আমাদের প্রীতি ম্যাচগুলোতেও আমরা সেটা পরখ করেছি। তাই বিকল্প খেলোয়াড় আছে এবং সবাই আগামীকালকের জন্য প্রস্তুত।’ চীন ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে অভিষেক হয়েছে মিলি আক্তারের। উত্তর কোরিয়া ম্যাচেও দারুণ খেলেছেন তরুণ এই গোলরক্ষক। ৫ গোল হজমের ম্যাচেও গোটা পাঁচেক অসাধারণ সেভ করেছেন রূপনা চাকমার জায়গায় সুযোগ পাওয়া মিলি। প্রেস কনফারেন্সে মিলির প্রংশসা করে উজবেক কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশের গোলরক্ষক চমৎকার খেলছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে গোলপোস্টের নিচে খুবই সাহসী। তার জন্য অনেক অভিনন্দন। তাদের আক্রমণভাগেও বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে দিনশেষে আমরা নিজেদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে সেরাটা খেলতে হবে। অন্যদের নিয়ে খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই।’
উজবেক কোচের চোখে ‘মিলি সাহসী’
স্পোর্টস রিপোর্টার, অস্ট্রেলিয়া থেকে
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
