যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা গোপন বিষয় নয়- ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা গোপন বিষয় নয়- ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তার দেশের জনগণের স্বার্থে লড়াই চালিয়েই যেতে হবে। উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আমাদের মানুষকে হত্যা করছে। তারা ছাত্রীদের হত্যা করছে। আপনারা জানেন তারা হাসপাতালেও হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ করতে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তা আগেই ভেঙে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন আবার আপনারা যুদ্ধবিরতি চাইছেন? এভাবে বিষয়টি কাজ করে না। আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান হওয়া দরকার। যতক্ষণ না আমরা সেখানে পৌঁছাচ্ছি, ততক্ষণ আমাদের জনগণ ও আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে বলে আমি মনে করি। এনবিসি এ খবর দিলেও ইরানকে কে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

শুক্রবার চারটি সূত্র এনবিসি নিউজকে জানায়, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে, যার মধ্যে এমন তথ্যও রয়েছে যা ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ইরান রাশিয়ার সহায়তা পাচ্ছে কি না- এ প্রশ্নে চাপে পড়লে আরাঘচি বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা নতুন কিছু নয়, এটি কোনো গোপন বিষয়ও নয়।

তবে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেন, তারা আমাদের অনেক ভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। এ বিষয়ে আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সহায়তা না করলে ইরান আর তাদের ওপর হামলা করবে না। তিনি আরও ক্ষমা চান, কারণ ইরানের হামলায় কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু আরাঘচি বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে ‘আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর হামলা’ করেনি। তিনি বলেন,
আমরা মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন স্থাপনা, মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা করছি, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রতিবেশীদের মাটিতে অবস্থিত।

আরাঘচি আরও বলেন, পেজেশকিয়ান অঞ্চলটির মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন এবং আমাদের পাল্টা জবাবের কারণে তারা যে ভোগান্তির মুখে পড়েছে তার জন্য। ইরানের এই মন্ত্রী আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তাহলে আমাদের খুব সাহসী সৈনিক আছে, যারা আমাদের মাটিতে প্রবেশকারী যেকোনো শত্রুর জন্য অপেক্ষা করছে তাদের সঙ্গে লড়াই করতে, হত্যা করতে এবং ধ্বংস করতে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, যুদ্ধ শুরুর একটি কারণ ছিল। তাহলো ইরানের কাছে শিগগিরই এমন ক্ষেপণাস্ত্র চলে আসবে যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হবে। কিন্তু আরাঘচি বলেন, এটি সত্য নয়। তিনি বলেন, এটা সত্য নয়। আসলে এটি ভুল তথ্য। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ২০০০ কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ রেখেছি। কারণ আমরা চাই না পৃথিবীর আর কেউ আমাদেরকে হুমকি হিসেবে অনুভব করুক।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেছে। তবে কে তাকে প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে আরাঘচি কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, কেউ জানে না। অনেক গুজব ছড়াচ্ছে। তবে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস বসার জন্য।

ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে- যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তিনি জড়িত থাকতে চান, জবাবে আরাঘচি বলেন- ইরান কাউকে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। তিনি বলেন, এটা ইরানি জনগণের ব্যাপার। তারা তাদের নতুন নেতা বেছে নেবে। তারা ইতিমধ্যেই অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নির্বাচন করেছে এবং সেই অ্যাসেম্বলিই এ কাজটি করবে।

Sukur ulla

৩ মাস আগে

Tight

MD.Hafiz Uddin

৩ মাস আগে

May Allah save the Iran.

A R Sarker

৩ মাস আগে

ইরান সঠিক পথেই আছে।

মন্তব্য করুন