ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে যৌথ মানববন্ধন করেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাব ও জিয়া পরিষদ, জামায়াতপন্থি শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরাম ও নিহতের স্বজনরা। রোববার বেলা ১২টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, নিহতের চার শিশু সন্তান ও পরিবারসহ ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। মানববন্ধনে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানূর রহমানের সভাপতিত্বে ভিসি ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রো-ভিসি ড. এয়াকুব আলী, ট্রেজারার ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়াও ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. গফুর গাজী, জিয়া পরিষদের সভাপতি ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, গ্রিন ফোরামের সেক্রেটারি ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক ও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. গফুর গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীর সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার রক্তের দাগ মুছতে না মুছতে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল। প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জিয়া পরিষদের সভাপতি ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ১৯৯৫ থেকে অসংখ্যবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হেনস্তার শিকার হয়েছে কিন্তু এর কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। কিছুদিন আগে আমাদের এক শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার স্বীকার হয়েছে কিন্ত প্রশাসন এখনো সন্দেহভাজন কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনার অগ্রগতিতে কেউই সন্তুষ্ট নয়। অপরাধীকে যদি বিচারের আওতায় না আনা যায় তবে সে লাগাতার অপরাধ করতেই থাকবে। তাই প্রশাসনকে বলতে চাই অপরাধীকে ধরতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আপনাদের পাশে আছে। মানববন্ধনে সভাপতি ও তদন্ত কমিটি আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষিকা হত্যার ঘটনা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আমি চাই অতিদ্রুত এ হত্যাকারীর বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দল মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে এই তদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। এতে আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভিসি ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার হত্যাকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার খুবই মর্মাহত। এই বিশ্ববিদ্যালয় একজন আদর্শ শিক্ষককে হারিয়েছে। যা অকল্পনীয় ও অভাবনীয়। তার নির্মম হত্যার বিচার দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ। হত্যার বিচার দাবিতে পরিবার থেকে মামলা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই হত্যার বিচার নিশ্চিতে প্রশাসন থেকে যত সহযোগিতা প্রয়োজন সর্বোচ্চটুকু করবো। উল্লেখ্য, গত ৪ঠা মার্চ নিজ বিভাগের সাবেক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় ৫ই মার্চ ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরদিন আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ইবি থানা। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও বর্তমানে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষিকা হত্যার বিচার দাবিতে ইবি’র তিন শিক্ষক সংগঠন ও স্বজনদের মানববন্ধন
ইবি প্রতিনিধি
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
