বান্দরবানের আলীকদম সরকারি দপ্তরের টেবিলে বসেই চলছে কমিশনের হিসাব এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও’র নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শুধু কমিশন নয় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেই ঠিকাদারি করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের দু’টি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে কাজ করে ফেলেছেন পিআইও নিজে। সেসব কাজের বিলও উত্তোলন করে ফেলেছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও ফাইল নড়ে না। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত, কখনো নতুন শর্তের বেড়াজাল। এইভাবে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় আবেদনকারীদের। কিন্তু নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ পৌঁছালেই ফাইলের গতি বদলে যায় আশ্চর্যজনকভাবে। প্রতিটি কাজের প্রকল্পে কমিশন হিসেবে নেন প্রায় ১৫ শতাংশ।
আলীকদমে পিআইওর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অবস্থান কর্মসূচি অভিযোগ গত ২৯শে জুলাই ২০২৫ সালে, তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় কিস্তি প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন নির্মাণাধীন প্রকল্পের বিলের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, এর আগেও সুনামগঞ্জে দিরায় উপজেলা থেকে সংযুক্তিতে ত্রাণ অধিদপ্তরের কর্মরত ছিলেন। পরে এই পিআইও’র বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের শাস্তিমূলক হিসেবে এক প্রকার বান্দরবান আলীকদমে বদলি করে ত্রাণ অধিদপ্তর। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্প থেকে জনপ্রতিনিধিদের কাজ থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করে নিচ্ছেন। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকিয়ে নানা হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু কী কমিশন, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ কাঠামোটি আর প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের মেরিনচরপাড়া সোনে স্কুল রাস্তা মেরামত ও বুজিরমুখপাড়া যাওয়ার রাস্তায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ। এই দুটি প্রকল্পের নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন এই পিআইও কর্মকর্তা। জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ প্রতিটি কাজের কমিশন হিসেবে ১৫ শতাংশ গ্রহণ করে থাকেন। এর আগেও প্রায় ২৫ শতাংশ হিসেবে কমিশন নিতেন পিআইও। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে নিজেই কাজের বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসনের ভেতরে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক উপজেলার দুই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে থাকে। কমিশন না দিলে কোনো কাজ দিচ্ছে না। এর আগে ২৫ পার্সেন্ট নিতেন পিআইও। এখন কমিয়ে দিয়েছে। তবে সেসব কমিশন ইউএনও নেন না আর বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান তারা। বান্দরবানে ঠিকাদার শামীম হোসেন জানান, উপজেলায় একটি প্যাকেজে দুটি ব্রিজ বরাদ্দ ছিল। দুটি কাজে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। একটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে দশ লাখ করে দুটিতে বিশ লাখ টাকা আদায় করে নিয়েছেন পিআইওরা। অভিযোগ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কেএম নজরুল ইসলাম সঙ্গে রোববার সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা ঠিক না, বরঞ্চ সরাসরি কথা বলবো ভাই, বলে কল কেটে দেন। এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। আর জনপ্রতিনিধিরা আমাকে জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
আলীকদমে উপজেলা পিআইও নিজেই ঠিকাদার
নুরুল কবির, বান্দরবান থেকে
৯ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
