১২ বছরেও খোঁজ মেলেনি মালয়েশিয়ার নিখোঁজ সেই বিমানের

এভিয়েশন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত রহস্য

১২ বছরেও খোঁজ মেলেনি মালয়েশিয়ার নিখোঁজ সেই বিমানের

ফন্ট সাইজ:

এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রহস্য হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর ধ্বংসাবশেষ ১২ বছর পরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অমীমাংসিতই রয়ে গেলো রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হওয়া এ এয়ারলাইন্সটি। সর্বশেষ অনুসন্ধান অভিযানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের বিশাল এলাকা স্ক্যান করা হলেও বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দি স্টার, মালয় মেইল, স্কাই নিউজ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এক হালনাগাদ তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সামুদ্রিক রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সহযোগিতায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে পরিচালিত অনুসন্ধানেও নিখোঁজ বিমানটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়া সরকার ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সমুদ্রতল অনুসন্ধান চালানো হয়। চুক্তিটি ছিল ‘নো ফাইন্ড, নো ফি’ ভিত্তিতে—অর্থাৎ কোনো সন্ধান না মিললে প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ প্রদান করতে হবে না।

চুক্তি অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপ চলে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপ চলে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ২৮ দিন অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নির্ধারিত অনুসন্ধান এলাকায় প্রায় ৭ হাজার ৫৭১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রতল স্ক্যান করা হয়।

দি স্টার অনলাইন দেশটির মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই ওশান ইনফিনিটি বিস্তৃত অনুসন্ধান এলাকায় অতিরিক্ত জরিপ কার্যক্রমও পরিচালনা করেছিল, যা পুরো অপারেশনকে সহায়তা করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও সমুদ্রের বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনুসন্ধান কার্যক্রম মাঝে মাঝেই বিঘ্নিত হয়েছে।

অনুসন্ধানের দ্বিতীয় ধাপ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। হালনাগাদ প্রতিবেদনে ব্যুরোর বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, “এই আপডেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত অনুসন্ধান কার্যক্রমে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা বিমানটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নিশ্চিত করে।”

এদিকে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর যাত্রীদের পরিবার মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুসন্ধান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে দি স্টার অনলাইনসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দেশটির সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বিমানে থাকা যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিতভাবে অবহিত রাখার প্রতিশ্রুতি তারা বজায় রাখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ ২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানটিতে ১২ জন ক্রু সহ মোট ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন