মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে হামলায় মধ্যপ্রাচ্য এখন উত্তপ্ত কড়াই। গোটা মধ্যপ্রাচ্যই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতের এক সপ্তাহ না যেতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমনকি সংঘাত দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, বিঘ্নিত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সমুদ্রপথে শিপিং ঝুঁকির কারণে আগামী কয়েক মাস সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরান বন্ধ করে দেয়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতের মতো বড় উৎপাদকরা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল পাঠাতে পারছে না।

জেপি মরগান এবং রাইস্টাড এনার্জির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন হামলায় কাতারের গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো এবং সৌদি আরামকোর বৃহত্তম রাস তানুয়ারা পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার (বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ) ইতিমধ্যে তাদের গ্যাস রপ্তানিতে অনিবার্য কারণে সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এগুলো মেরামত করে উৎপাদনে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব: এশিয়ার দেশগুলো তাদের ৬০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ইতিমধ্যে ভারত ও থাইল্যান্ড জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইউরোপ এলএনজির ওপর নির্ভরশীল ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম এক সপ্তাহেই ৩৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৩২ ডলারে পৌঁছেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।

সুযোগ নিচ্ছে রাশিয়া: মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি মেটাতে ভারতসহ অনেক দেশ এখন রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্রও কৌশলগত কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে রাশিয়ান তেল কেনার ওপর সাময়িক ছাড় দিয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান কয়েক মাস ধরে সমুদ্রপথে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। ফলে হরমুজ প্রণালী কবে নাগাদ নিরাপদ হবে, তা অনিশ্চিত। এমনকি যুদ্ধ থামলেও তেল ক্ষেত্রগুলো পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Tipu

৩ মাস আগে

দায়ী মধ্যপ্রাচ্যের দাসত্ব। বয়কট ট্রাম্প। আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন