সরকারের দাবি জ্বালানির সংকট নেই, আসছে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ

সহযোগীদের খবর

সরকারের দাবি জ্বালানির সংকট নেই, আসছে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ

ফন্ট সাইজ:

বণিক বার্তা

‘সরকারের দাবি জ্বালানির সংকট নেই, আসছে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, এরই মধ্যে কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরো দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ সোমবার ও বুধবারের মধ্যে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজও সোমবার দেশে আসার কথা রয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার কাতার ছাড়াও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আসলে জ্বালানি তেলের কোনো অভাব নেই। ৯ মার্চ দেশে আরো দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসছে। সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই। ঘাটতি পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তার পরও যেহেতু যুদ্ধ চলছে আমাদের হিসাব করে চলতে হবে।’

গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘প্যানিক হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আপনারা জনগণকে এ বার্তাটা দিন যে তাড়াহুড়ো করে তেল কেনার কোনো দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুদ আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারা রাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই।’

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি পণ্যবাহী বিভিন্ন জাহাজের পাশাপাশি ওমানের সোহার বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ আজ বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে ‘জিওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আরো একটি ট্যাংকার ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, সরকার দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে ক্রেতারা পাম্পগুলোতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল পাচ্ছে না। অনেক পাম্পের নিজস্ব মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো বন্ধ থাকায় কোনো পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়নি। একাধিক পাম্পে কর্মরতরা জানান, আজ থেকে ডিপোতে তেল সরবরাহ হলে পাম্পগুলো আবার খোলা হবে।

মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট সংকট ক্রেতাদের ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন সরকার ও তেলের পাম্পের মালিক-ব্যবসায়ীরা। পাম্পের মালিক-ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিটি পাম্পের নির্দিষ্ট মজুদের ব্যবস্থা থাকে। আর প্রতিদিন কী পরিমাণ তেল বিক্রি হবে এরও একটি হিসাব থাকে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর কয়েকদিন ধরে মানুষ অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তেল কিনছে। এ প্যানিক বায়িংয়ের কারণে দ্রুত তেল শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি গত শুক্র ও শনিবার জ্বালানি তেলের ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়নি, যে কারণে অনেক তেলের পাম্প বন্ধ ছিল।

প্রথম আলো

‘এক বছরে ধর্ষণ বেড়েছে ২৭%’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ বুঝতে চাইলে আদালত আর হাসপাতালে আসুন—কথাটা মুখে মুখে বেশ চালু। তবে এটা চরম সত্যও। ১ মার্চ ঢাকার চারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ঘোরার সময় অচেনা মুখগুলোতে বিষাদ ও উৎকণ্ঠার ছাপগুলো খুব স্পষ্টই অনুভব করা যাচ্ছিল। কক্ষের ভেতরে স্থান সংকুলান হয় না, তাই বাইরে বারান্দায় পেতে রাখা বেঞ্চে বসে ছিলেন ভুক্তভোগী নারী ও তাঁদের স্বজনেরা। মামলার নম্বর আর নাম ধরে ডাক পড়তেই নারীরা উৎকণ্ঠা নিয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়াচ্ছিলেন। একটি ট্রাইব্যুনালে মাইক্রোফোন ব্যবহারের কারণে ভুক্তভোগী নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এ পেছনের বেঞ্চে এই প্রতিবেদকের পাশে বসে ডাক পাওয়ার আশায় ছিলেন এক তরুণী। এই ট্রাইব্যুনালে মাইক্রোফোন নেই, ফলে বাদীদের বিষাদ আর অবসাদগ্রস্ত কণ্ঠ বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছিল না। শোনা যাচ্ছিল শুধু বিচারক ও আইনজীবীর কথা। বোঝা যাচ্ছিল, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক শিশুর মামলায় এক আসামির জামিনের আবেদন করা হয়েছিল, বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন। শিশু ধর্ষণ মামলার আসামির দিকে তাকিয়ে বিচারক ভর্ৎসনা করলেন। সেদিকে তাকিয়ে ওই তরুণী পাশে বসে থাকা এই প্রতিবেদককে বললেন, তিনি প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক ধর্ষণের মামলার আবেদন নিয়ে এসেছেন। মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কথা বলার এক পর্যায়ে মুখ ঢেকে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

ঢাকার এই আদালতগুলোতে যখন ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে আবেদন নেওয়া ও শুনানি হচ্ছে, তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর কয়েকটি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনা উঠে এসেছে আলোচনায়। পাবনায় দাদিকে হত্যা করে কিশোরী নাতনিকে ফসলের খেতে টেনে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। নরসিংদীতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের শিকার একটি মেয়ের পরিবার বিচার চেয়েছিল স্থানীয়ভাবে। মেয়েটি পরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশুকে যৌন সহিংসতার পর গলা কেটে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত শিশুটি জঙ্গল থেকে একা হেঁটে বের হয়েছিল, যা দেখে অনেকে শিউরে ওঠেন। দেড় দিন লড়াইয়ের পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় শিশুটির। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সাবেক প্রেমিকের ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মব সহিংসতার ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও ঘটে গেছে নারী নিপীড়নের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই তরুণীকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন আরেক শিক্ষার্থী। এরপর আরও ঘটনা ঘটেছে। ৩ মার্চ সাহ্‌রি খেতে ওঠার সময় কক্সবাজারের উখিয়ায় বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থলেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনার কোনোটিতে মামলা হয়েছে, কোনোটিতে হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছর নারী নির্যাতনের যত মামলা হয়েছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ধর্ষণের অভিযোগের।

এ পরিস্থিতির মধ্যে প্রত্যাশার স্লোগান নিয়ে আজ ৮ মার্চ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’।

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক আচরণ বন্ধ করা শুধু সরকারের একার কাজ নয়, এটা সবার দায়িত্ব। এটা মোকাবিলায় সম্মিলিত সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নারীকে মর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

যুগান্তর


দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন’। খবরে বরা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি এবং তিন তেল বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশ অনেকটা বিপাকে পড়েছে। সময়মতো জ্বালানি তেল মজুতের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মজুত না করায় সারা দেশে তেল নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে সর্বনিম্ন ৬০ দিনের তেলের ধারণ ক্ষমতা বা মজুত রাখার সক্ষমতা তৈরি করার সিদ্ধান্ত হলেও এখন আছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মতো। সেই ৩৫ দিনের মধ্যে ডিজেল আছে ১০-১১ দিনের মতো। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এখন তেলের মজুত আছে ৭৪ দিন, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ৩০ দিন এবং নেপালে আছে ১০ দিনের। অন্যদিকে এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে তেলের মজুত আছে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে ২৫০ দিনের।

বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশে ৩০-৩৫ দিনের মজুতের ধারণ ক্ষমতা আসলে কোনো কিছুই নয়। এটাকে কোনোভাবে মজুতের ক্ষমতা বা আপৎকালীন সক্ষমতা বলা যায় না। এটা একেবারে পরিচালনের মজুত ছাড়া কিছুই নয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তেল বিতরণ কোম্পানিগুলো জ্বালানি তেলের ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ গ্রহণে আগ্রহী। গত অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের প্রতি কর্মচারীকে ১৮ লাখ টাকা করে লভ্যাংশের বোনাস দেওয়া হয়েছে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম তেল খাতের এ পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, বিপিসি একটি অদক্ষ প্রতিষ্ঠান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে গত এক মাস আগে থেকে। তাদের এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর ৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুত নেমে আসে ৯ দিনে। এরপর সারা দেশে তেলের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই রেশনিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে পুরো তেল খাতে। জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টরা পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে জানতে পেরেছে, বিপিসি এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূলত দুই কারণে এমনটি হয়েছে। ২০২০ সালে করোনাকালীন তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তেলের মজুতের ধারণ ক্ষমতা থাকবে কমপক্ষে ৬০ দিন। সেদিকে কেউ কোনো নজর দেয়নি। দ্বিতীয়ত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে। এর মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। এই কার্যকলাপ দেখে তেলের ৩০ দিনের মজুত করলেও তেমন সমস্যা হতো না।

সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে বিপিসির কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। এমনকি যুদ্ধের ফলাফল কী হতে পারে সেদিকেও তাদের নজর ছিল না। তৃতীয়ত, যুদ্ধ শুরুর পর বিপিসি ও তিন বিতরণ কোম্পানি ২ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন এবং ডিলারদের ডিপো থেকে প্রায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। অথচ ওই সময়ে তেল বিক্রিতে সবচেয়ে সচেতন হওয়া দরকার ছিল। ওই তিন দিনে ৭০ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিক্রি হতো ৪৫ হাজার টন।

জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জুমে বৈঠক করে পুরো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এতে করে বিপিসির অদক্ষতা প্রমাণ পেয়েছে। জানা গেছে, ওই বৈঠকের পর সরকার বিপিসির দুই পরিচালক আজাদুর রহমান এবং মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে ওএসডি করেছে। বিপিসিতে আরও রদবদল হতে পারে বলে জানা গেছে।

কালের কণ্ঠ

‘হামলার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের বুক হিম করা বিকট শব্দে এখন মধ্যপ্রাচ্যবাসীর প্রতি মুহূর্ত কাটছে নাম না জানা শঙ্কায়। দিগন্ত কাঁপিয়ে আকাশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নানা প্রজন্মের জঙ্গিবিমান। অনেকটা নিঃশব্দে লক্ষ্যপানে ছুটে চলছে হরেক মডেলের প্রাণঘাতী ড্রোন। বুলেটের প্রাণহীন সিসা কখন কার প্রাণ কাড়ে, সেটাও কেউ জানে না।

কেউ প্রাণ হারায় ঘরে কেউ বা আশ্রয়কেন্দ্রে। কেউ বা রাস্তায়। এটাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিত্যদিনের দিনলিপি। বিশেষ করে গতকাল শনিবার মার্কিন মিত্রদের ভয়াবহ তাণ্ডবের ফলে যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি বৈশ্বিক গণমাধ্যমেও বেশ ফোকাস হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশঙ্কা করেছেন, ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শনিবার ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কারো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান নতুন নতুন মার্কিন সামরিক স্থাপনা খুঁজছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি শাসনের লাগাম টানতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েই চলেছেন। তাঁর কড়া ধমকে চুপসে গিয়ে ইউরোপের প্রথম সারির দেশগুলো মিত্রতার দোহাই দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একে একে জড়ো করছে সামরিক সম্পদ। অবশ্য ধ্বংসযজ্ঞে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে অসম সাহসী ইরানও। প্রতি মুহূর্তে রক্ত ঝরছে, লাশের স্তূপ বাড়ছে, বাড়ছে শতাব্দী কাঁপানো হাহাকার।

মানুষের তাজা রক্তে লেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ইতিহাস। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরান নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ২৫তম দফার হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে দেশটি। আইআরজিসি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। ঘণ্টায় এর গতি ছয় হাজার ১৭৪ কিলোমিটার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল শনিবার ভোর থেকে থেমে থেমে ইরানের তেহরান আর ইস্পাহানে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে। এরই মাঝে ইরানও একটি ঈর্ষণীয় সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছে। কয়েক দিন আগে কাতারে ১.১ বিলিয়ন ডলার দামের মার্কিন রাডার ধ্বংসের পর জর্দানে এবার ৩০০ মিলিয়ন ডলার দামের আরেকটি রাডার ধ্বংসের বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে ইরান। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি আরটিএক্স করপোরেশনের এন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তাও থাডের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, ‘যদি ধ্বংসের বিষয়টি সত্যি হয়ে থাকে, তবে থাড রাডারের ওপর এই হামলা হবে ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত, কাল আসছে দুই জাহাজ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে দুদিন ধরে একটি জাহাজের তেল খালাস হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা অনুসারে আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। চীনা জাহাজে ছাড় থাকায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় দেশের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়বে না।

ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়। এরই মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। জ্বালানি বিভাগ, বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশে তেলের সম্ভাব্য সংকট ও দাম বাড়ার শঙ্কায় কয়েক দিন ধরে তেল বিক্রি বেড়ে যায়। পেট্রোল পাম্পে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে গতকাল শনিবার পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। দেশের অনেক স্থানেই সকালের পর তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর অনেক পাম্প ঘিরে ছিল এক-দেড় কিলোমিটারের লম্বা লাইন। দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল কিনতে পারেন ক্রেতা।

সাধারণত সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে পাম্পগুলোতে এমনিতেই কম থাকে তেলের মজুত। এর সঙ্গে গুজবের কারণে অতিরিক্ত তেল কেনা যুক্ত হলে গতকাল ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। সংকট সৃষ্টির পেছনে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, শুক্র বা শনিবার সীমিত আকারে ডিপো খোলা রাখলে ভোগান্তি কম হতো।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এবং বেশি মুনাফার লোভে কেউ কেউ তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে, নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ে মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করায় এক ব্যবসায়ীর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সংসদ ভবনের পাশের তালুকদার পাম্পের সামনে গাড়ির সারি জিয়া উদ্যানের লেকের মোড় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। আসাদগেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে লাইন গেছে প্রিপারেটরি স্কুল পর্যন্ত। পরীবাগের মেঘনা পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গাড়ির সারি শাহবাগ ছড়িয়ে পড়ে।

রাজধানীর মালিবাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোটরসাইকেলচালক নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। তাই আজ সকালে বের হয়েছি। বেলা ১১টা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। আলমগীর হোসেন কাজ করেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। গতকাল অফিসে যাওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বের হতে গিয়ে দেখেন ট্যাঙ্কে তেল কম। পরে তিনি ঝুঁকি না নিয়ে রিকশায় অফিসে যান। নেওয়াজ করিম নামে এক গাড়িচালক পরীবাগের পাম্পে তেল কেনেন গতকাল বিকেলে। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাইন ধরে ১০ লিটার অকটেন কিনেছি।

ইত্তেফাক

‘যুদ্ধে প্রথমবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইরানের’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আরো হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে দেশটি। গতকাল ছিল যুদ্ধের অষ্টম দিন। ইরানি বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হামলায় তারা প্রথম বারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পালটা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তেহরানের বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানের সাধারণ জনগণকে টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। এদিকে ইরানের কাছে আরো একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে আমেরিকা।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার :ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ২৫ তম দফার হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, আইআরজিসি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তাকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। যার গতি ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল।

প্রণালিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত তেলবাহী জাহাজের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের গণমাধ্যম। এর আগে এক বিবৃতিতে হামলার খবরটি নিশ্চিত করছিল আইআরজিসি। যেখানে শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে এমন দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে না দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে আইআরজিসি। যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ আসলে আর ফিরে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের হামলার ভয়ে বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো ইরাকের তেলক্ষেত্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমেরিকার সেনা ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এতে তছনছ হয়ে গেছে স্যাটেলাইট সেন্টার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংগৃহীত ফুটেজে দেখা যায়, কর্মীরা সাফওয়ান সীমান্ত পেরিয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন। অন্যদিকে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন।

ইরানের বিমানবন্দর ও লেবাননে আরো হামলা ইসরাইলের

ইরানের রাজধানী তেহরান এবং ইসফাহানে বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ‘বিস্তৃত’ হামলার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। প্রত্যক্ষদর্শীদের শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে ইরানের ব্যস্ততম এ বিমানবন্দরে জ্বলন্ত বিমান ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইরানে হামলায় ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটির দাবি, ইরানে সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হামলা চালাচ্ছে। রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যুক্ত ৬৫টি স্কুল এবং ১৩টি কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল সামরিক বাহিনী বা আইডিএফ। তারা দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা উপত্যকায় রকেট লঞ্চার, অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর অভিজাত কমান্ডো ইউনিট, রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। হামলায় লেবাননের নবি চিট শহরে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেল এলাকায় দুটি রাদওয়ান কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের খবরও নিশ্চিত করেছে তারা। এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা তৃতীয় রণতরি পাঠাচ্ছে। এই রণতরিটির নাম ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ। -বিবিসি ও আলজাজিরা

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ইরান যুদ্ধে বিপদ বাড়ছে ট্রাম্পের’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ অষ্টম দিনে আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবার ভোরে আবারো ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেলআবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিভিন্ন স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখা গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি একটি অবাস্তব স্বপ্ন, যা তারা ‘নিজেদেরকে কবর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’ একই সাথে তিনি ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান।

আলজাজিরার সরাসরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে ইসরাইলি হামলার পর তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল কারচাক এলাকায় বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ- সব ক্ষেত্রেই কঠোর পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এ দিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা তেহরান ও ইসফাহানে নতুন করে হামলার ঢেউ শুরু করেছে। একই সাথে লেবাননের বেকা উপত্যকার নবী চিত শহরে রাতভর ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সঙ্ঘাতের বিস্তার এখন মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু ছিল। যদিও এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্য দিকে কাতার ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। বাহরাইনের সামরিক বাহিনীর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা অন্তত ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাহরাইন ও ইরাকের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আজকের পত্রিকা

‘লেবানন পরিস্থিতি: নির্বিচার হামলায় লেবাননকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননভিত্তিক মিলিশিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় ছোট দেশটিতে ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয় চরমে উঠেছে। গত ৫ দিনে অন্তত ২৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩ জনে। শুধু রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেই এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১২০ জন। হাজারো মানুষ শরণার্থী হয়ে সীমান্ত পেরিয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার কিছু সময় পরই হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনা তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

গত সোমবার হিজবুল্লাহ দাবি করেছিল, তারা উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক স্থাপনায় রকেট হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ওইদিনই ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা শুরু করে। দক্ষিণ লেবানন ও রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন নিহত হয়; আহত হয় আরও ১৪৯ জন। ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও নির্বিচার হামলায় দৃশ্যত বেসামরিক হতাহতই বেশি।

যুদ্ধ থেকে নিরাপদ থাকতে লেবাননের দুর্বল সরকার সে দেশে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নিষেধ অমান্য করে এর যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়ে যেতে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থনপুষ্ট অ-রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত ও শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত লেবাননের শিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহ। তাদের কেন্দ্র করে উত্তর সীমান্তের এই প্রতিবেশীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত লেগেই আছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনা।

লেবাননের শিয়া ইসলামি মিলিশিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহর এক বড় পৃষ্ঠপোষক ইরান। ইরানের আর্থিক সাহায্য এবং অস্ত্র-প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সমর্থন হিজবুল্লাহর গঠন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিনিময়ে তারা ইরানের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে; এমনটা বলা হয়ে থাকে।

গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ‘বড় মানবিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউএনএইচসিআর। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

শুক্রবার ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকার নাবি চিত শহরে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হিজবুল্লাহর তথ্য অনুযায়ী নাবি চিত এলাকায় শুক্রবার অন্তত ১৩ দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছে ওই অঞ্চলের প্রায় ৯৫ হাজার বাসিন্দা। সে রাতে বেকা উপত্যকার বালবেকের কাছে একটি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, ইসরায়েলের হামলার পর স্থানীয় যোদ্ধারা হালকা ও মাঝারি অস্ত্র দিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়।

লেবানন ছাড়াও সিরিয়া সীমান্তেও হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের যোদ্ধারা সিরিয়ার সীমান্ত দিয়ে ৪টি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার অনুপ্রবেশ করতে দেখলে রকেট হামলা চালিয়ে প্রতিহত করে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন কতটুকু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরনো ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে আজ সংসদ থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নারীর সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। আর এটাই প্রমাণ করছে যে, দেশ ও সমাজ পরিচালনায় তারা সমান দক্ষ। তবে বাংলাদেশেও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও সামাজিক রূপান্তরের ফল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান ছিল বহুমাত্রিক। একাত্তরের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানান লড়াই সংগ্রামে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই নারীদের অবস্থান। কিন্তু তবুও রাজনীতিতে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের পেছনে রাখা হয়েছে। এর চিত্র দেখা যায় স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংসদে নারীদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে।

আমরা দেখেছি, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদে (১৯৭৩) নারী সদস্য ছিলেন ১৫ জন। পরে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদে ৩২ জন, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদে ৩৩ জন, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদে ৪ জন, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে ৩৫ জন, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদে ৩৩ জন, ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে ৩৮ জন, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে ৫২ জন, ২০০৮ সালে নবম সংসদে ৭১ জন, ২০১৪ সালে দশম সংসদে ৬৯ জন, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদে ৭২ জন এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদে ৬৯ জন নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। আর এবারের নির্বাচনে মাত্র ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৫ বছরে এটি সবনিম্ন। তবে কোনো সময়ই আশানুরূপভাবে সংসদে নারী সদস্য ছিলেন না, যেখানে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা আসীন ছিলেন, তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন কতটুকু?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানার মতে, কোনো দল বা জনগোষ্ঠী যদি মনে করে তারা আসলে নারীর ক্ষমতায়ন চায় না, তবে তারা মুখে যতই কথা বলুক, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করবে না। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যখন ঐকমত্য কমিশনে এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে, তখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল জামায়াত। সে সময় তারা বলেছিল, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তারা চায়। কিন্তু পরে তাদের নারীদের দিয়েই বলাচ্ছেন নারীর নেতৃত্বে একটি দেশ চলতে পারে না। জামায়াতে ইসলামী বা এই ধরনের সংগঠনগুলোর বক্তব্যে এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে নারীর নেতৃত্ব তারা চায় না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন