৭৭ কোটি ডলারের বিনিময়ে বৃটেনের প্রভাবশালী ডেইলি টেলিগ্রাফ কিনে নিচ্ছে জার্মান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার। এরইমধ্যে এই চুক্তি করেছে দু’পক্ষ। এর মাধ্যমে বৃটেনের ঐতিহ্যবাহী এই সংবাদমাধ্যমটি তাদের মিডিয়া সম্পদের তালিকায় যুক্ত হলো। বিতর্কিত বিক্রয় প্রক্রিয়ায় এই চুক্তি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দেয়। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রস্তাবকে ছাড়িয়ে যায়। সেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবটি দিয়েছিল ডেইলি মেইল অ্যান্ড জেনারেল ট্রাস্ট। তারা বৃটেনের ডেইলি মেইল পত্রিকা এবং জনপ্রিয় মেইল অনলাইন সংবাদসাইটের মালিক। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার দীর্ঘদিন ধরেই বৃটেনের গণমাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে চেয়েছে। এর আগে তারা ২০০৪ সালে টেলিগ্রাফের জন্য বিড করে। এ ছাড়া, ২০১৫ সালে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস যখন জাপানের নিক্কেই-এর কাছে বিক্রি হয়, তখনো তারা রানারআপ ছিল বিডে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বৃটেনের কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে টেলিগ্রাফ খুবই জনপ্রিয় এবং পত্রিকাটি সাধারণত তুলনামূলক সচ্ছল পাঠকদের জন্য। এটি রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্পের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। নিউজ কর্প টাইমস অব লন্ডন প্রকাশ করে এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মালিক। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাথিয়াস ডফনার বলেন, আমরা টেলিগ্রাফকে আরও বড় করতে চাই। তবে এর স্বতন্ত্র চরিত্র ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকবে। যাতে এটি ইংরেজিভাষী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পঠিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী মধ্য-ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়।
বৃটেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ গ্রুপ আইএমআইয়ের যৌথ উদ্যোগ রেডবার্ড আইএমআই ২০২৪ সাল থেকে টেলিগ্রাফের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ছিল। কিন্তু আইএমআই রাষ্ট্রসমর্থিত হওয়ায় বৃটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ডিএমজিটির একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা টেলিগ্রাফ অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবেই এগিয়ে যেত।
গত নভেম্বর মাসে রেডবার্ড আইএমআই ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডে, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারে, পত্রিকাটি ডেইলি মেইল অ্যান্ড জেনারেল ট্রাস্টের কাছে বিক্রি করার চুক্তি করে। তবে সেই চুক্তি সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এরপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার প্রক্রিয়ায় ঢুকে ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি প্রস্তাব দেয়। পলিটিকো এবং বিজনেস ইনসাইডারের মালিক অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার বলেছে, তারা ডেইলি টেলিগ্রাফের যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি ‘টার্বোচার্জ’ করবে এবং একে ইংরেজিভাষী বিশ্বের শীর্ষ মধ্য-ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ডফনার ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেয়ার জন্য পরিচিত, এর মধ্যে ইসরাইল-সমর্থক মতামতও রয়েছে। তবে টেলিগ্রাফ সেই ধরনের নতুন ডিজিটাল মিডিয়া সম্পদ নয়, যেগুলো কিনতে তিনি আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন তিনি আগ্রহী। ডফনারের ব্যবসায়িক উচ্চাকাঙক্ষার মধ্যে রয়েছে- আগামী পাঁচ বছরে তার কোম্পানির ৪ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন দ্বিগুণ করা। এর একটি অংশ আসবে ইসরাইলি এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশেষ করে বিজ্ঞাপন, গল্প বলার কৌশল এবং সাবস্ক্রিপশন সেবার মতো খাতে। জার্নাল আগে এমনটাই জানিয়েছিল।
