‘ভারতের ওপর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার বিশাল একটা বাড়তি চাপ আছে। আমরা যদি সেই চাপটা আরও বাড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে যেকোনো কিছু হতে পারে- ফাইনালে মাঠে নামার আগে এমন অভিব্যক্তি নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক মিশেল স্যান্টনারের। নিজেদের ফেভারিট ভাবছে না কিউইরা। তবে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিতে প্রস্তুত তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনাল আজ। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ড। খেলা শুরু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় কিউইদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উঠা কিউইদের। অন্যদিকে প্রথম ও সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলা ভারতের সামনে সুযোগ নতুন ইতিহাস গড়ার। আহমেদাবাদের ফাইনাল জিতলে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঁিচয়ে ধরা একমাত্র দল হবে তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগের নয় ফাইনালের মধ্যে ছয়বারই জিতেছে রান তাড়া করা দল। ফাইনালের উইকেটটি লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি। এই ধরনের উইকেটে পেসাররা বাড়তি বাউন্স পান। তবে উইকেটটি ব্যাটিংবান্ধব হওয়ায় ফাইনালটি হাইস্কোরিং হবার সম্ভাবণা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হার নিয়ে সুপার এইটে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে ভাগ্যকে পাশে পাশে কিউইরা। পাকিস্তানের সমান তিন পয়েন্ট তুলে তারা। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে ওঠে। ফাইনালে ওঠার পথে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায়। ফাইনালের আগে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক স্যান্টনার বলেন, ‘ভারতের ওপর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার বিশাল একটা বাড়তি চাপ আছে। আমরা যদি সেই চাপটা আরও বাড়িয়ে দিতে পারি, তবে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরা ফেবারিট নই জেনেই মাঠে নামি। তবে নিজেদের ছোট ছোট কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে ট্রফি জেতা সম্ভব। এবার ট্রফিটা জেতার জন্য আমি যদি কয়েক কোটি মানুষের হৃদয় ভাঙতে হয়, তবে আমি তাতেই রাজি।’
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ফেবারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করে। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে ওঠে। তবে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়ে। শেষ দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ রানের জয় পায়। ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের গভীরতা। বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে যাত্রা শুরু করলে এবারের বিশ্বকাপে তাদের টপ অর্ডার ধারাবাহিক হতে পারেনি। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে আসর শুরু করা অভিষেক শর্মা ৭ ম্যাচের তিনটিতে ‘ডাক’ মারেন। কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার আভাস দিলেও শেষ দুই ম্যাচে ব্যর্থ হন। বাহাতি এ ব্যাটারের খারাপ সময়ে ভারতের ভাগ্য বদলে দেন সাঞ্জু স্যামসন। প্রথম তিন ম্যাচ বেঞ্চে থাকলেও সুপার এইটে প্রত্যাবর্তনটা দুর্দান্তভাবে রাঙান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস ভারতকে সেমিফাইনালে তোলে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতের বোলিং তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিশেষ করে ডেথ ওভারে জসপ্রিত বুমরাহ যেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী বোলার। স্পিন বিভাগে বরুণ চক্রবর্তী স্পিন নেতৃত্ব দিলেও অক্ষর প্যাটেল বেক থ্রু এনে দিচ্ছেন। হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দলে ভারসাম্য আনছেন। কিউইরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় ভারসাম্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে দলটিতে রয়েছে আগ্রাসী ব্যাটিং এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের এক দারুণ সমন্বয়। ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্ট প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর শুরুতে চাপ তৈরি করেন। মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস, ড্যারিল মিচেল এবং রাচিন রবীন্দ্র ইনিংস মেরামতের কাজ সারেন। বোলিংয়ে লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরিদের গতির সাথে স্যান্টনারের স্পিন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম। এছাড়া গ্লেন ফিলিপসের অতিমানবীয় ফিল্ডিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। মিডল অর্ডারের ফিনিশিং দুর্বলতা কিউইদের চিন্তার কারণ হতে পারে। ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দিতে না পারলে স্লগ ওভারে দ্রুত রান তুলতে তাদের বেগ পেতে হয়। ফাইনালে অপরাজিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ভারত। তবে অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকায় টপ অর্ডারে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে ঈশান কিশান ওপেনিংয়ে এবং রিংকু সিং মিডল অর্ডারে আসতে পারেন। বোলিংয়ে বরুণ চক্রবর্তীর জায়গায় কুলদীপ যাদব একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। আহমেদাবাদের কন্ডিশন বিবেচনায় কিউই একাদশে জিমি নিশামের বদলে অভিজ্ঞ স্পিনার ইশ সোধিকে দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০ ম্যাচের ১৮টিতে জিতেছে ভারত। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিসংখ্যান কিউইদের পক্ষে। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই ভারতকে হারের স্বাদ দিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ২০০৭ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ১০ রানের জয়ের পর, ২০১৬ সালে ভারতকে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট করে ৪৭ রানের বড় জয় পায় নিউজিল্যান্ড। শেষ দেখায় ২০২১’র বিশ্বকাপে দুবাইয়ে ভারতকে ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত করে কিউইরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল আজ
নিউজিল্যান্ডের ‘প্রথম’ নাকি ভারতের ইতিহাস
হাছিবুল বাসার
৮ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
