নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন কেন তার রাঁধুনি

নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন কেন তার রাঁধুনি

ফন্ট সাইজ:

ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তার ব্যক্তিগত রাঁধুনি। এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলস। আদালতকে নেইমারের রাঁধুনি বলেন, ভারী কাজের চাপের কারণে তিনি পিঠের ব্যথা এবং নিতম্বে প্রদাহজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ ৬২ হাজার ব্রাজিলীয় রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ লাখ টাকা) করেন। নেইমারের বিরুদ্ধে করা এই মামলা বর্তমানে ব্রাজিলের আঞ্চলিক শ্রম আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ অনুযায়ী, নেইমারের বাসায় রান্নার দায়িত্বে থাকা এ নারী দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন। তাকে ভারী সামগ্রী বহন করতে হতো। এতে ওই নারীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রিও ডি জেনিরোর আঞ্চলিক শ্রম আদালতে এই নারী অভিযোগ, নেইমারের বাসভবনে তাকে প্রতিদিন ১৫০ জনের বেশি মানুষের জন্য রান্না করতে হতো। মাংসসহ ভারী সামগ্রী বহনের কারণে তার পিঠে ব্যথা ও নিতম্বে প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়।

এ কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষাও করান। নেইমারের কাছে এ জন্য ভরণপোষণ ভাতাও দাবি করেছেন তিনি মেট্রোপোলস তাদের প্রতিবেদনে জানায়,নেইমারের বাসায় রান্নার জন্য এই নারীর নিবন্ধিত বেতন ছিল প্রায় ৪ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৯৩ হাজার ২৩৮ টাকা)। মামলায় তিনি শ্রম আদালতকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কাজ, বোনাসসহ মাসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা) পেতেন। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, শুধু সপ্তাহের দিনগুলোতে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হলেও এই নারী সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করতে বাধ্য হতেন। নেইমারের বাসায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

শুধু নেইমার নয়, ওই রান্না কর্মী তাকে নিয়োগ করা কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। নথি অনুযায়ী, এই কর্মী গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেইমারের প্রধান বাসভবন কাসা হোটেল পোর্তোবেল্লো এবং পাশের আবাসিক এলাকা কনডোমিনিও পোর্তোবেল্লোয় কাজ করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই রাঁধুনির বেলায় কর্মঘন্টা মানা হয়নি। প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় থাকতে হতো এবং গড়ে দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মী। তার অভিযোগ, কখনো কখনো রাত ১১টা, এমনকি মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতেন। নেইমার, তার বন্ধুবান্ধব ও স্বজন মিলিয়ে সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জনের জন্য রান্না করতে হতো বলে তিনি দাবি করেন।

আদালতে যে নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে, সেখানে এই নারীর আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, ‘অতিরিক্ত কাজের চাপের পাশাপাশি ভুক্তভোগী চুক্তির শুরু থেকেই এমন কাজের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা করতে যথেষ্ট শারীরিক শ্রম প্রয়োজন। তিনি নিয়মিতভাবে প্রায় ১০ কেজি ওজনের মাংস বহন করতেন, ফ্রিজের দেখাশোনা করতেন, সুপারমার্কেটে কেনাকাটার পণ্য নিয়ে আসা ও পণ্য খালাস করতেন, অনেক ভারী ব্যাগ বহন করতেন, সারা দিনের কাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। অভিযোগকারী নিয়মিতভাবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি ভোগ করতে পারেননি। পুরো চাকরির মেয়াদজুড়ে বিবাদীপক্ষ তাঁকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির জন্য উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে বাধ্য করত, যদিও সেই সময়েও তিনি কাজ করতেন।’ ব্রাজিলের শ্রম আইনের ৭১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ছয় ঘণ্টার বেশি সময়ের কর্মদিবসে কর্মীদের জন্য অন্তত এক ঘণ্টার বিশ্রাম বা খাবারের বিরতি দেয়া বাধ্যতামূলক। মানগারাতিবায় নেইমারের দুটি প্রাসাদসম বাড়ি রয়েছে। একটি বাড়ির মূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৬৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ বাড়িতে রয়েছে ছয়টি সুইট, একটি সুইমিংপুল, অবসর কাটানোর জায়গা এবং বন্ধুদের থাকার জন্য ১০টি স্যুইটসহ একটি আলাদা অংশ। মামলা করা নারী কর্মী এই শেষের অংশেই কাজ করতেন বলে অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নেইমারের আরেকটি বাড়ি অবস্থিত অ্যারো রুরাল কন্ডোমিনিয়ামে, যা কৃত্রিম হ্রদের জন্য বেশ পরিচিত। এই সম্পত্তি একসময় মানগারাতিবা পরিবেশবাদী সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নেইমারকে ১ কোটি ৬০ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হয়। তবে পরে নেইমার জরিমানা স্থগিত করার পাশাপাশি মামলায় খালাস পান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন