রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতারা হলেন শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৫ই মার্চ দায়ের করা মামলার এজাহারে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল উল্লেখ করেন, গত তিন মাস ধরে ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবি করা চাঁদা না দেয়ায় গত বছরের ২৬শে নভেম্বর তারা তাকে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। সর্বশেষ গত বুধবার (৪ঠা মার্চ) রাত ১০টার দিকে কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর করেন এবং আবারো প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন। সেখানে তারা দাবি করেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিভিন্নভাবে দলটির পক্ষে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও শিক্ষক জুয়েল আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এছাড়া গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মহানগরীর কুমারপাড়ায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, “তাদের অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে। আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি, বরং সহযোগিতা করেছি। আমি নিয়মিত কলেজে ক্লাস নিই। নিজেদের বাঁচাতে তারা এখন নানা ধরনের কথা বলছেন।” মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে কলেজ শিক্ষককে মারধর, গ্রেপ্তার ২
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে
৮ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
