ফেনীতে রেকর্ড দেড় হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ

ফেনীতে রেকর্ড দেড় হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ

ফন্ট সাইজ:

ফেনীতে হঠাৎ তরমুজ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। ফলনেও অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে সোনাগাজীসহ ছয় উপজেলায় চলতি বছর মৌসুমি এ ফলের আবাদ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে। এর মাধ্যমে জেলার উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর চরাঞ্চলে আবাদি ও অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদলের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও নদীতে জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিকসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অন্তত ৫২ হাজার টন ফলন উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। রমজানের শুরু থেকেই বাজারে তরমুজ বিক্রি শুরু হলেও ঈদুল ফিতরের পর পুরোদমে ফল বাজারে মিলবে। আগাম ফলের দাম প্রত্যাশানুযায়ী পেয়ে খুশি চাষিরা। জেলার উপকূলীয় জনপদ সোনাগাজীর নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। জোয়ারের লবণাক্ত পানির শঙ্কায় একসময় বিশাল চর অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই চরাঞ্চলে এখন ফলছে মৌসুমি ফসল তরমুজ। রমজানের শেষদিকে ফলন ঘরে তোলার অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন কৃষক। সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন, নবাবপুর, আমিরাবাদ, সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ও চর দরবেশ ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠ উচ্চ ফলনশীল ব্লাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, গ্লোরি ড্রাগন, ব্লাক বেরী, ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ নানা জাতের দেশি-বিদেশি তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষকরা জানান, আগের বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ বেড়েছে তরমুজের চাষাবাদ। বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস না হলে ফলনও ভালো হবে। সোনাগাজীর চর দরবেশ এলাকার আবুল কালাম নামের এক কৃষক জানান, সোনাগাজীর চরে প্রতি বছর বাড়ছে তরমুজের আবাদ। এর অন্যতম কারণ হলো এখানে উৎপাদন ভালো হয়। ফলের গুণগত মানও অনেক ভালো। সোনাগাজী ছাড়াও জেলার সদর উপজেলার কালিদহ, ধর্মপুর, ছাগলনাইয়ার শুভপুর, ফুলগাজী ও পরশুরাম, দাগনভূঞার কিছু গ্রামে বেড়েছে তরমুজের আবাদ। কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে চলতি মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের উৎপাদন অন্য যেকেনো বছরের তুলনায় রেকর্ড অতিক্রম করবে। তবে চরের চাষিরা বলছেন, ’২৪-র বন্যায় মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে লবণ পানির জোয়ারের কারণে চাষাবাদে ক্ষতির সমুক্ষীন হচ্ছেন তারা। তরমুজ নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। ক্লোজারটি পুনঃনির্মাণের দাবি তাদের। ফেনী কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত বছরগুলোর চাইতে জেলায় বেড়েছে তরমুজের আবাদ। সবচেয়ে বেড়েছে সোনাগাজী উপজেলায়। এখানকার চরের ১১শ’ হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে রসালো এই ফল। অন্য উপজেলাগুলোতেও আবাদ বেড়েছে। তবে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে জোয়ারের লবণ পানি প্রবেশ নিয়ে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, বিগত মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের আবাদ হয়েছিলো ৭শ’ ৭৪ হেক্টর। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৯৯ হেক্টর। সে হিসেবে গেল বছরের তুলনায় আবাদ বেড়েছে ৫শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৯শ’ ৬০ টন। বিগত মৌসুমে ফেনীতে আবাদকৃত তরমুজের বাজার ছিল প্রায় ১’শ ৫০ কোটি টাকার। প্রতি কেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা করে হলেও চলতি মৌসুমে তা ছাড়িয়ে ২শ’ ৫০ কোটি টাকার বেশি হবার আশা সংশ্লিষ্টদের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন