বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা নালুয়া-বড়বাড়িয়া খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে খননের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। খালটি কালের পরিক্রমায় এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকদের পানির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পুরনো এই স্মৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারের কাছে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শী বয়োবৃদ্ধ কেরামত আলী খান জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারযোগে উপজেলার বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এসেছিলেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নালুয়া-বড়বাড়িয়া খাল নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে তৎকালীন ইউপি সদস্য মালেক উকিলের মাথায় মাটির ঝুড়ি উঠিয়ে দিয়ে খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। বেঁচে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগী হয়ে ওঠেন। কয়েক দশক আগেও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। খালটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এলাকাবাসীর জীবনে। সেই খাল এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে মাটি ভরাট, পলি জমা, কচুরিপনাসহ নানা কারণে খালের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। খালটির অনেক স্থানে এলাকার স্বার্থান্বেষীরা দোকানপাট উঠিয়ে তা দখল করে রেখেছে। তবে খালটি শুকিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। আগে জনপ্রিয় এ খালের পানি ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমে ধানসহ নানা কৃষিপণ্য উৎপাদনে সেচের একমাত্র উৎসাহ ছিল। বর্তমান পানি প্রবাহ না থাকায় নলকূপের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে কৃষকদের। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। তৎকালীন বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ রাজনীতিবিদ এফ.এম.ফরহাদ হোসেন জানান, এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটা জায়গা। ১৯৭৭ সালের দিকে তিনি এসেছিলেন। তাকে আমি এবং এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি প্রয়াত ডা. আতিয়ার রহমান মোল্লা হেলিকপ্টার থেকে প্রেসিডেন্টকে হাত ধরে নামিয়ে ছিলাম এবং নালুয়া-বড়বাড়িয়া খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। কালের বিবর্তনে দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে খালটি এখন ভরাট হয়ে গেছে। এ সময় খালটি পুনঃখনন করার অনুরোধ জানান তিনি।
চিতলমারীতে শহীদ জিয়ার খননকৃত খালটির বেহাল দশা
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
৮ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
