নরসিংদীর মাধবদী থানার চাঞ্চল্যকর কিশোরী আমেনা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সৎ বাবাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ২টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার (২৮) সঙ্গে নিহত আমেনার আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে সূত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অপরদিকে আসামি হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০-১২ দিন আগে হযরতের বাড়িতে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তদন্তে জানা যায়, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী (৪০) পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে হত্যা করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফ আলী স্বীকার করেছে, সে ওই রাতে আমেনাকে তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই হত্যা করে। গত ৬ই মার্চ আমেনা হত্যা মামলার মূল আসামি আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি মাধবদীর কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। নিহতের প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলোচিত এ ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সৎ পিতা আশরাফ আলী, প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা এবং হযরত আলী আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাধবদীতে আমেনা হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সৎ বাবাসহ গ্রেপ্তার ৯
মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
৮ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
