কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচে পাওয়া গেছে উখিয়ার প্রবাসীর স্ত্রী কোহিনূরের মরদেহ। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহত কোহিনূর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে অসুস্থ ছোট শিশুকে নিয়ে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালে শিশুটিকে রেখে ওষুধ আনতে বের হন কোহিনূর আক্তার। কিন্তু এরপর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা জানান, কোহিনূর নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাকে খুঁজে পেতে তারা উখিয়া থানা, কক্সবাজার সদর মডেল থানা এবং র?্যাব-১৫ এর কাছেও সহযোগিতা চান। তবুও টানা তিনদিন কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে নিখোঁজের চারদিন পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লিফটের নিচে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দিনরাত যেখানে শত শত রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মচারীদের যাতায়াত, সেই হাসপাতালের ভেতরেই কীভাবে একটি মরদেহ তিনদিন পড়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি কতোটা দুর্বল হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে- সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে মায়ের খোঁজ না পেয়ে হাসপাতালে ছোট শিশুটির কান্নার ঘটনাও স্থানীয়দের নাড়া দিয়েছে। একটি মা নিখোঁজ থাকার পরও তিনদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে তার কোনো খোঁজ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও সাধারণ মানুষ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে লাশ হলেন মা
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে
৮ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
