চট্টগ্রামের পাম্পে তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন

চট্টগ্রামের পাম্পে তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরে জ্বালানি তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্য বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অনেক চালক আগেভাগেই ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিচ্ছেন। ফলে নগরের বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে যানবাহন চালকদের। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত চাপের কারণে সাময়িকভাবে বিক্রিও বন্ধ রাখতে হয়েছে।

শুক্রবার ছুটির দিনেও নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিকালের দিকে নগরের গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। কর্মচারীরা তেল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাঁচলাইশ, ষোলশহর, অক্সিজেন, নতুন ব্রিজ ও আতুরার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ চালক ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পাম্পে মজুত দ্রুত কমে গেছে। বর্তমানে পাম্পগুলোতে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দেড় থেকে দুইগুণ বেশি গাড়ি তেল নিতে আসছে। অনেক চালক সরাসরি ফুল ট্যাংক করতে চাইছেন, ফলে প্রতিটি গাড়িতে তেল দিতে বেশি সময় লাগছে এবং লাইনের চাপ বাড়ছে। গণি বেকারি মোড়ের কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা মনির জানান, তাদের কাছে তেলের কোনো সংকট নেই এবং দামও বাড়েনি। ‘তেলের সংকট হবে- এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারপরও মানুষ কেন হুমড়ি খেয়ে তেল কিনতে আসছে বুঝতে পারছি না।’ পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থিত এমআইভি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। দুই পাশে রশি টেনে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তেল কিনতে লাইনে দাঁড়ানো সাখাওয়াত হোসেন নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘টিভি ও পত্রিকায় দেখেছি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে তেল আসা কমে গেছে। তাই কয়েকদিনের জন্য ট্যাংক ভর্তি করে নিচ্ছি।’ নুর উদ্দিন নামে এক মাহিন্দ্রচালক বলেন, ‘মুরাদপুর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করি। নগরের প্রায় সব পাম্পেই তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন রয়েছে। কিছু পাম্প নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দিচ্ছে।’ মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বলেন, ‘বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন