‘পাঁচ গোলে হারা অসম্মানজনক নয়’

‘পাঁচ গোলে হারা অসম্মানজনক নয়’

ফন্ট সাইজ:

চীন এশিয়ার বর্তমান ও সর্বাধিক ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৭। এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল। ২-০ গোলে হারলেও আফঈদাদের খেলায় মন ভরেছিল প্রবাসীদের। উত্তর কোরিয়া এশিয়ান কাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে। একাধিকবার বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতেছে দেশটি। এমন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারবে, এটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে ৫-০ গোলের হার দর্শকদের কিছুটা হতাশ করেছে। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শিষ্যদের পারফরমেন্সে মোটেও হতাশ নন বাংলাদেশের হেড কোচ পিটার বাটলার। তার কাছে উত্তর কোরিয়ার মতো পরাশক্তির কাছে ৫-০ গোলে হারা মোটেও অসম্মানজনক নয়।

২০০৬, ২০১৬ ও ২০২৪ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে উত্তর কোরিয়া। সবশেষ জেতা বিশ্বকাপ দলের ডজনখাকে ফুটবলার আছে এই দলে। উজবেকিস্তান ম্যাচেও তারা সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে। গতকাল কমব্যাংক স্টেডিয়ামে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেটা বার বার বোঝাতে চেয়েছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। সত্যিই আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি। এমন দলের বিপক্ষে ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না। কারণ আমরা সেই স্তরে নেই। তবে আমি তাদের প্রচেষ্টায় এবং তারা যা করেছে তার জন্য গর্বিত’। মাঠে ও মাঠের বাইরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মেয়েদের অনেক পার্থক্য উল্লেখ্য করে বাটলার বলেন, ‘আপনি যদি উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের প্রোফাইল, তাদের শারীরিক উপস্থিতির কারণে আমরা তাদের আটকাতে পারছিলাম না। এটি একটি সম্পূর্ণ অসম লড়াই ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয়েছে আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং আমরা আসলে নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। কিন্তু এমন একটি ভালো দলের কাছে হারা সত্যিই লজ্জার কিছু নয়। প্রথমার্ধের নির্র্ধারিত ৪৫ মিনিট পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ করা সময়ের শুরুর দুই মিনিটেই দুই গোল হজম করে বসে মেয়েরা। আগের ম্যাচেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিল। এর কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়েছে। আবহাওয়া একটি প্রভাব ফেলে থাকতে পারে, তবে আমি সেটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না কারণ তা উভয় দলের জন্যই সমান ছিল। আমার মূল কথা হলো, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো শীর্ষ মানের দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেনই। কিছু মনোযোগের অভাবও থাকতে পারে। গ্রুপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রত্যাশিত হারই দেখেছে বাংলাদেশ। এখন সামনে আসল পরীক্ষা

উজবেকিস্তান কিনা জানতে চাইলে বাটলার বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশার ব্যাপারে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় বলেছি যে এখানে পৌঁছানোই ছিল আমাদের বিশ্বকাপ। এই মানের দলগুলোকে হারানোর কোনো প্রত্যাশা আমার নেই। আমাদের পার্থক্য দিন আর রাতের মতো।’ চীনের বিপক্ষে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে বসিয়ে মিলিকে খেলানোর সিদ্ধান্ত ছিল বিস্ময়কর। তবে চাপের মুখেও মিলি যেভাবে একের পর এক সেভ দিয়েছেন তা নজর কেড়েছে সবারই। কাল মিলিকে উপদেশ দিয়ে বাটলার বলেন ‘মাঝে মাঝে তাকে অনেক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এশিয়ান কাপের মতো এই স্তরে আসার পর আমাদের গোলকিপিং বিভাগটি একটি দুর্বল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মিলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তাকে কেবল কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং মাটিতে পা রেখে চলতে হবে। খুব বেশি রোমাঞ্চিত হওয়া যাবে না।’ বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৯ই মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন