উখিয়া-টেকনাফে দাগি অপরাধীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

দেশ জুড়ে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সহিংস অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দাগি অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সারা দেশে নতুন করে অপরাধীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন তালিকায় বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে পেশাদার চাঁদাবাজ, অপহরণকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িতদের। পাশাপাশি আগের তালিকায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, খুনি, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের তথ্যও হালনাগাদ করা হবে। মৃত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে জেল পলাতক জঙ্গিদেরও তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিকে, সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অস্ত্র ও মাদক কারবার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবার বড় চালান দেশে প্রবেশ করছে এবং এর একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুত হয়ে পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে অন্তত ৬০টি হটস্পট দিয়ে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে উখিয়ায় নাফ নদ ও স্থলপথে সাতটি এবং বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আটটি পয়েন্ট সক্রিয়। অন্যদিকে, টেকনাফে নাফ নদীর তীরবর্তী ২৬টি ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ১৯টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা পাচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
উখিয়ার থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, আমতলী, ডিগলিয়া, পাতাবাড়ি, ইনানি, পাথুয়ার টেক, সোনারপাড়া ও রেজুখাল এলাকায় মাদক প্রবেশের একাধিক রুট সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মিস্ত্রিপাড়া, নোয়াপাড়া, ঝিনাপাড়া, আছারবনিয়া, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, জালিয়াপাড়া ও কায়ুকখালী ঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দীর্ঘদিন ধরে পাচারকারীদের ব্যবহৃত রুট হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে অচেনা লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ক্যাম্পের ভেতরে ও আশপাশে মাদক পাহারার জন্য আলাদা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। সীমান্তে মাদক পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মূল কারবারিদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, যারা মাদক কারবার করেন তারা যদি আমার দলে থাকেন, দয়া করে সরে যান। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে দল থেকে সরে যান। আমি একটি নিখুঁত উখিয়া-টেকনাফ গড়তে চাই। এরইমধ্যে কক্সবাজার সফরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে তার প্রথম কক্সবাজার সফর। আগামী ৮ ও ৯ই মার্চ দুই দিনের সফরে তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ৮ই মার্চ বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। পরে সার্কিট হাউজে স্বল্প সময় অবস্থান শেষে সন্ধ্যায় পেকুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ৯ই মার্চ সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন করে অপরাধীদের তালিকা তৈরি ও আসন্ন জেলা আইনশৃঙ্খলা সভা সীমান্ত অঞ্চলের অস্ত্র ও মাদক সিন্ডিকেট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন