পিয়াজখালির পিয়াজ যাচ্ছে দেশ জুড়ে, তবে লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

পিয়াজখালির পিয়াজ যাচ্ছে দেশ জুড়ে, তবে লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

ফন্ট সাইজ:

ফরিদপুরের পিয়াজখালির পিয়াজ এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রসুইঘর মাতাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই অঞ্চলের উৎপাদিত পিয়াজ প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বড় বড় জেলাগুলোতে। পিয়াজখালি বাজারে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে পাইকার ও কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। তবে বাম্পার ফলন আর দেশজুড়ে চাহিদার ভিড়েও লোকসানের আশঙ্কায় মলিন হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মুখ। উল্লেখিত বাজারটি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই পিয়াজ উৎপাদনে সারা দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে ফরিদপুর জেলা। এছাড়া বিশেষ করে জেলার নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পিয়াজের চাষ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে সদরপুরে পিয়াজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থায়ী হাট-বাজারের পাশাপাশি এই মৌসুমে পিয়াজখালি বাজারের পাশেই বসেছে বিশাল এক অস্থায়ী হাট। এখানে সারা দিন চলে শুধু পিয়াজ কেনাবেচা। কৃষকরা সরাসরি জমি থেকে পিয়াজ তুলে নিয়ে আসছেন এই হাটে, আর পাইকাররা সেখান থেকেই ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন গন্তব্যে। তবে বাজারে পিয়াজের প্রচুর আমদানি থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন। পিয়াজখালি হাটে পিয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক ও হাট কমিটির সহ-সভাপতি জলিল বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বিঘা পিয়াজ চাষে আমাদের খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে গড়ে ৮০-৯০ মণ। বর্তমান বাজারে পিয়াজ বিক্রি করছি ৯০০ থেকে ১০৫০ টাকা মণ দরে। এই দামে বিক্রি করলে আমাদের উৎপাদন খরচই উঠবে না, উল্টো লোকসান গুণতে হবে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, যদি বাজারমূল্যের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে আগামীতে তারা পিয়াজ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই ন্যায্যমূল্য পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন এই অঞ্চলের মেহনতি কৃষকরা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন