নাটোরের বড়াইগ্রামের সকল ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি ১০০ টাকার অতিরিক্ত তেল দিচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধের কারণে তেল সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে স্বল্প দিনের জন্য তেল মজুত রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ফিলিং স্টেশনগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, ফিলিং স্টেশনগুলো কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসার চিন্তা করছে। যার ফলে প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। অপরদিকে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে ১০ লিটারের বেশি তেল দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে তেলের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও অকটেন নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও নিয়ম বেধে দিয়েছে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, বাস-ট্রাক প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ১০০ লিটার পরিমাণ ডিজেল দেয়া হচ্ছে। উপজেলার বনপাড়া মদিনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কৃষ্ণপদ প্রামাণিক জানান, তেলের ডিপোতে অনেক চেষ্টা করে, তদবির করে এক গাড়ি পেট্রোল ও এক গাড়ি ডিজেল আনতে পেরেছি। সকলে যেন কিছু হলেও তেল পায় তার জন্য নিয়ম বেধে দেয়া হয়েছে। রাতের মধ্যে এই তেল শেষ হয়ে যাবে। এরপর হয়তো ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হবে। উপজেলার আহম্মেদপুর কানন ফিলিং স্টেশন মালিক ধীরেন্দ্রনাথ সাহা জানান, তেল ডিপো থেকে পর্যাপ্ত না দেয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলো সীমাবদ্ধতা বজায় রাখছে যেন কেউ তেল সংকটের অজুহাতে বা অচিরেই দাম বাড়বে এমন অজুহাতে মজুত না করে। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে ১৪ দিনের ডিজেল, ১৭ দিনের অকটেন, ৯ দিনের পেট্রোল মজুত রয়েছে এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর জনমনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। যার ফলে জনগণ তেল মজুত করার চেষ্টা করছে। বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ছালাম জানান, তেল সংকট নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ালে অথবা কেউ তেল মজুত করলে বা কোথাও আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে কিছু সংকট তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। এটা সাময়িক সমস্যা। আশা করি এই সংকট দ্রুত দূর হবে।
বড়াইগ্রামে প্রতি মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি তেল জুটছে না
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
৭ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
