নদীভাঙনে ছোট হয়ে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের মানচিত্র

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে বেসামাল বালু উত্তোলনকারী, বালু ব্যবসায়ী, বালু মহাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তাদের দখলে উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ৫টি ইউনিয়ন। এসবের কারণে ব্যাপক হারে বেড়েছে নদীভাঙন। এতে ছোট হয়ে যাচ্ছে উপজেলার মানচিত্র। জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলে নদীর তীরবর্তী অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ভারী ট্রাকের অবাধ চলাচলে জনজীবন ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। সরকারি অনুমোদন ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবহন চলছে। এতে ভেঙে পড়ছে সড়ক ও কালভার্ট। সৃষ্টি হচ্ছে ধুলাবালির তীব্র দূষণ। ধুলার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে অতিরিক্ত ভারবাহী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তোলিত বালুর বেশির ভাগই কোম্পানীগঞ্জে ব্যবহার না হয়ে দূরবর্তী স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে অন্যত্র উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এর বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পরিবেশগত দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও খাল ভরাট, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, পানির স্তর হ্রাস এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। এ বিষয়ে চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, আমরা নদীভাঙন রোধের বিষয় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেছি।
কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এটি বন্ধ করা হয়নি। ফলে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি, হাজার হাজার একর ফসলি জমি। একজন বালু ব্যবসায়ী বলেন, আমরা প্রতিদিন ২০-২৫ লাখ টাকার বালু বিক্রি করি থাকি। উপজেলা প্রশাসন আমাদের ১৫-২০ হাজার টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করে। তারা আমাদের ব্যবসা বন্ধ করতে পারবে না। উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক সাবেক মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম শিকদার বলেন, খুবই দ্রুত নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রথমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন