৪০ বছর বয়সী মো. আলম। তার সংসারে আছেন স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং এক ছেলে। তার উপার্জনেই চলতো পুরো সংসার। উপার্জনের সম্বল বলতে একটি অটোরিকশাই ছিল। গত দুই বছর আগে প্রায় দেড় লাখ টাকায় কেনা অটোরিকশাটি দিয়ে ভালোই উপার্জন করতেন আলম। তার উপার্জনে স্বাচ্ছন্দ্যেই চলছিল সংসার। কিন্তু তার উপার্জনের সেই সম্বলটি সু-কৌশলে নিয়ে গেছে চোরচক্র। চুরি হওয়ার পর থেকে দিগ্বিদিক অটোরিকশাটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। উপার্জনের একমাত্র সম্বলের খোঁজে নাওয়া-খাওয়া বন্ধপ্রায় আলমের। আলম লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বালুরচর এলাকার মৃত মো. শাহে আলমের ছেলে। আলম বলেন, দুই বছর আগেও আমার একটি অটোরিকশা চুরি হয়ে যায়। এরপর আবারো এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিনি আরেকটি অটোরিকশা। সেই অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হতো তা দিয়ে গত দুই বছর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালোই চলছিলাম। তবে গত সোমবার (২রা মার্চ) কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী এলাকার শাহাদাত আলী হাওলাদার বাড়ির দরজায় রিকশাটি রেখে বাড়ির ভেতরে যাই। এরপর বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি অটোরিকশাটি আর নেই। তারপর থেকে পাগলের মতো ওই অটোরিকশাটি খুঁজে বেড়াচ্ছি। তিনি আরও বলেন, অটোরিকশাটিই ছিল আমার উপার্জনের একমাত্র সম্বল। ইচ্ছা ছিল ঈদে ভালো উপার্জন করে স্ত্রী-সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেবো। তবে এখন আমার সেই অটোরিকশাটিই নেই। এখন কীভাবে চালাবো সংসার, এনজিও’র ঋণই বা কীভাবে শোধ করবো। নতুন করে আরেকটি অটোরিকশা কীভাবে কিনবো, অটোরিকশা না কিনলে আমার সংসারও চলবে না। কারণ আমি ভারী কোনো কাজ করতে পারি না। কোথায় পাবো এত টাকা, অটোরিকশাটি খুঁজে না পেলে আমার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমার অটোরিকশাটি উদ্ধার করে দিতে অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে রিকশাটি উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে নাওয়া খাওয়া বন্ধ আলমের
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
৭ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
