জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোটরসাইকেলে করে টাকা সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ী ও তার সহকারীর ওপর হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় আহত দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার বিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে নাজিমুদ্দিন একজন আড়ৎ ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) সকাল থেকে দিনভর তিনি তার সহকারী আব্দুল আলিমকে মোটরসাইকেলের পিছনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা সংগ্রহ করেন। সারাদিনের টাকা কালেকশন শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা মোটরসাইকেলে করে মাত্রাই-বিয়ালা সড়ক হয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থামিয়ে দেয়। এরপর তাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে নাজিমুদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী আব্দুল আলিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনের বাবা নুর আলম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিয়ালা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে হারুন (৪৫) এবং তার ভাই মামুনুর রশিদসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদ। তারা সবাই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন বলেন, হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদসহ ১০-১২ জন লোক তাদেরকে মারপিট করে সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অনেকেই তাদেরকে রাস্তায় যেতে দেখেছে। তারা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। ৫ই আগস্টের পর এলাকার অনেকের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছে। মামলার বাদী নুর আলম বলেন, টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারপিট করেছে তার বিচার চাই। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় মামলার পর পরই হারুন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কালাইয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাই, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
৭ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
