মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় জ্বালানি তেলের বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু জ্বালানি তেলের দোকান। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা। কৃষিপ্রধান এই উপজেলার অধিকাংশ কৃষক সেচের কাজে ডিজেলনির্ভর সেচযন্ত্র ব্যবহার করেন। ফলে হঠাৎ তেলের সংকট দেখা দেয়ায় কৃষিকাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। স্থানীয়রা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-আমেরিকা ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগেই স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা। খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুত করা হচ্ছে। এতে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪-এর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে। শুক্রবার সরজমিন হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই কৃষকরা তেলের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। অনেককে খালি ড্রাম হাতে ঘুরতে দেখা গেছে। বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা গ্রামের কৃষক কাশেদ আলী বলেন, ডিজেল নিতে এসেছিলাম। দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ডিজেল ছাড়া সেচ দিতে পারবো না। পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে। ঝিটকা এলাকার মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের মালিক মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার দোকানে আধা লিটার তেলও নেই। গতকাল তেলের গাড়ি আসার কথা ছিল, কিন্তু আসেনি। হয়তো রবি বা সোমবারের আগে আর গাড়ি আসবে না। এদিকে, ভাদিয়াখোলা এলাকার মেসার্স সনিয়া পেট্রোলিয়াম হাউজের মালিক মো. রফিকের দোকান বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হরিরামপুরে সেচ মৌসুমে তেল সংকটে বিপাকে কৃষকরা
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
৭ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
