এএফসি এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়াকে প্রথম ৪৫ মিনিট আটকে রাখে বাংলাদেশ। তবে যোগ করা সময়ে দু’টি গোল হজম করে বিরতিতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঠে ফিরে গোলপোস্টের নিচে মিলি আক্তার বীরত্ব দেখালেও, আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল জড়ায় উত্তর কোরিয়া। ম্যাচের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন না কোচ পিটার বাটলার। বরং নিজেদের সামর্থ্য মেনে নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার মেয়েদের জন্য গর্ব বোধ করছেন তিনি।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে আজ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হার ৫-০ গোলে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কারণে লজ্জার কিছু দেখছেন না বাটলার। এ ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আজ আমরা এশিয়ার অন্যতম সেরা, সম্ভবত সেরা একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। মাঠের লড়াইয়ে তারা আমাদের প্রকৃত ফুটবল শিক্ষা দিয়েছে। শক্তি এবং কৌশলের দিক থেকে তারা আজ আমাদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে ছিল। সত্যি বলতে, তাদের সাথে পাল্লা দেয়ার মতো অবস্থায় আজ আমরা ছিলাম না। ৫-০ বা ৭-০ গোলের এই হার মোটেও লজ্জার নয়, বরং এটি আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা ফুটিয়ে তুলেছে। আমি মেয়েদের দোষ দিচ্ছি না, কারণ এ পর্যায়ের ফুটবলের জন্য আমরা এখনও প্রস্তুত নই। আমাদের নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে এই সত্যটুকু মেনে নেওয়াই শ্রেয়।’
মেয়েদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বাটলার আরও বলেন, ‘তবুও আমি আমার দলের প্রচেষ্টায় গর্বিত। তারা প্রত্যেকেই অসাধারণ লড়াকু। তবে উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের অ্যাথলেটিক সক্ষমতার দিকে তাকালে, তাদের শারীরিক গঠন, পেশির শক্তি আর ক্ষিপ্রতা আমাদের জন্য তাদের রুখে দেয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। মাঠের লড়াইটা ছিল পুরোপুরি অসম। দুর্ভাগ্যবশত, প্রখর রোদে আমাদের কিছু খেলোয়াড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে আমরা আমাদের স্বাভাবিক ছন্দটাও খুঁজে পাইনি। তবে এমন একটি বিশ্বমানের দলের কাছে হার মানা মোটেও লজ্জার কিছু নয়।’
নিজেদের জালের পাঁচবার বল জড়ালেও, ম্যাচজুড়ে দারুণ কিছু সেভ করেছেন মিলি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ গোলকিপারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বাটলার বলেন, ‘মিলি একজন সত্যিকারের লড়াকু ব্যক্তিত্ব, সে একজন খাঁটি সৈনিক। ওর অতীত এবং জীবনযুদ্ধ বিবেচনা করলে, জীবনের প্রতি ওর জেদ এং উদ্দীপনার প্রশংসা না করে পারা যায় না। ওর সাথে কাজ করাটা আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। সে এই সুযোগটা পাওয়ার যোগ্য এবং ওর জন্য আমার মনে কেবলই প্রশংসা। মাঝেমধ্যে ওকে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয়েছে এবং সত্য বলতে, এশিয়ান কাপের মতো আসরে আমাদের গোলকিপিং বিভাগটি কিছুটা দুর্বল ছিল। তবে মিলির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। ওকে শুধু কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং সবসময় বিনয়ী থেকে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। বেশি উত্তেজিত হওয়া চলবে না।’
প্রথম ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন ছিলো ০-০। সেখান থেকে দ্রুতই জোড়া গোল হজমের পর মাঠে ফিরে আরও তিন গোল ঢোকে বাংলাদেশের জালে। এ বিষয়ে লজ্জার কিছু দেখছেন না ৫৯ বছর বয়সী বাটলার। প্রতিপক্ষের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মোটেও দুঃখিত বা হতাশ নই, বরং আমার দলের এই মেয়েদের নিয়ে আমি গর্বিত। হতাশ হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের একবার ভেবে দেখা উচিত আমরা কাদের বিপক্ষে লড়ছি। প্রতিপক্ষ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই আমরা ৩, ৪ বা ৫ গোল হজম করতে পারতাম। তবে আমার বিশ্বাস, মেয়েরা মাঠে তাদের সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দিয়েছে। দিনশেষে, আমরা স্রেফ তাদের পর্যায়ের যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’
এদিনের হারের পর আগামী সোমবার পার্থে বাঁচা মরার লড়াইয়ে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশরা। ওই ম্যাচে জিতলে বিশ্বকাপের স্বপ্নও টিকে থাকবে। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের সঙ্গে সেরা দু’দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখবে আফঈদারা।
