মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর দুটি কার্গো কেনা হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও তুলনামূলক বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করছেন। জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানিতে সংকটের দিক বিবেচনায় জ্বালানি পণ্যে রেশনিং করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় অনেকেই আবার বিশেষ করে ভোক্তাপর্যায়ে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনে রাখছেন। তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আতঙ্কেও দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোলপাম্পগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। কেউ আবার বিক্রির পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে একটা কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও বিপিসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান পর্যাপ্ত মজুত আছে এমনটি জানিয়েছেন। জনগণকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু চলতি মাস নয়। আগামী জুন পর্যন্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। পরিশোধিত তেল যেসব উৎস থেকে আসবে, ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব নেই ওইসব অঞ্চলে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসবে জ্বালানি। বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে ২রা মার্চ পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসিও সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনও পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহ সাময়িকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা থেকে অতিরিক্ত ডিজেল কিনে মজুত করছেন। এতে বাজারে একটা ভীতি তৈরি হয়েছে। পেট্রল স্টেশনগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল মজুত রাখার সুযোগ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিনে দেশে প্রায় ৯৮ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৫৫ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।
পেট্রল ও অকটেনের মজুত নিয়ে তেমন উদ্বেগ নেই। কারণ এসব জ্বালানি দেশেও উৎপাদিত হয় এমনটি বলা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, দেশে এখন জ্বালানির সংকট নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম সতর্কতা নেয়া হয়েছে। সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে হলেও বিকল্প উৎস থেকে কেনা হচ্ছে। সবাইকে সাশ্রয়ী হতে অনুরোধ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতকেও এলপিজি আমদানিতে সহায়তা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বৈদ্যুতিক বাতি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার কমানো, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় জরুরি। এজন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতেও বলা হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং অফিসে অপ্রয়োজনীয় ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার কথাও বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রল বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে দেশে উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায়। গ্যাসের ব্যবহার কমাতে ইতোমধ্যে আটটি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে চারটি এবং কাফকো কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড চালু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি
সম্ভাব্য সংকট কাটাতে আমদানি করা হচ্ছে জ্বালানি
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
৩ মাস আগে
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬, ১১ঃ৪০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
