ইরান সংঘাতের মধ্যে আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বাতিল করল ইসরাইল

ইরান সংঘাতের মধ্যে আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বাতিল করল ইসরাইল

ফন্ট সাইজ:

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদে মুসলমানদের জুমার নামাজ বাতিল করেছে ইসরাইল। মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান শুরুর পর ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থানে আরোপিত বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতায় নতুন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

ইসরাইলের সিভিল প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার এক বার্তায় জানান, ইসরাইল ও পুরো অঞ্চলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত শনিবার ইসরাইল ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছিল, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় একটি সমঝোতা প্রায় হাতের নাগালেই ছিল।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরের সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। ফলে কোনো ধর্মের কাউকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।

ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরেইলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত এক হাজার ২৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরাইল। বর্তমানে সেখানে শুধু স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান মালিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

আল-আকসা মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম ইকরিমা সাবরি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, দখলদার কর্তৃপক্ষ যে কোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করে দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

উল্লেখ্য, জেরুজালেমের পুরোনো শহর অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে এই অঞ্চল দখল করার পর ইসরাইল পরে একতরফাভাবে এটি নিজের সঙ্গে যুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী ইসরাইলি রাজনীতিক ও বসতি স্থাপনকারীদের নিয়মিত সফরের কারণে আল-আকসা প্রাঙ্গণ ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও সেখানে ইহুদিদের নামাজের অধিকার দেয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং একসময় সেখানে একটি উপাসনালয় নির্মাণের কথাও বলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন