একে তো ওয়ার্কিং ডে। তারপরে শুক্রবার জুমার দিন। খেলাও স্থানীয় সময় দুপুর একটায়। সবকিছু মিলিয়ে সিডনি কমব্যাংক স্টেডিয়ামে এদিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিলো কম। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে চায়না ১৭, সেখানে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ৯। বাছাই পর্বেও দুর্দান্ত ছিলে উত্তর কোরিয়া। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৬ বার বল পাঠিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে তারা। উজবেকিস্তানকে তিন গোলে হারিয়ে তাদের এশিয়ান কাপের শুরুটা হয়েছে অসাধারণ। প্রচন্ড গরমের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে ১০৪ ধাপ পিছিয়ে থেকেও উত্তর কোরিয়াকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল মেয়েরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। আফঈদার ভুলে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। সেখানে গোল করে দলকে লিড এনে দেন আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা মং ইয়াং জং। পরের মিনিটে আরো এক গোল হজম করে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মিলির বীরত্বের পরেও দ্বিতীয়ার্ধে আরো তিন গোল হজম করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে আজ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় মেয়েরা। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালি চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে গেলেও মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়েছিল লাল-সবুজের দল। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল আটটায় (সিডনির সময় বেলা ১টা) ওয়েস্টার্ন সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে তিনবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ দল। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। চীনের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলে পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেললেও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার দিকেই বেশি নজর দেন বাটলার। একাদশ থেকে বাদ পড়েন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার উমেলাহ মারমা। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ দেয়া হয় মিডফিল্ডার আইরিন খাতুন ও ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে। চার ডিফেন্ডারের এই নতুন ফরমেশন পরিষ্কার করে দিচ্ছে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণে চেপে ধরাই ছিলো বাংলাদেশের লক্ষ্য।
গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার বদলে গত ম্যাচে উচ্চতা বিবেচনায় সুযোগ পাওয়া মিলি আক্তার অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কোচের মন জয় করেছেন। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও তার ওপরই আস্থা রেখেছেন বাটলার। রক্ষণভাগে দলের হাল ধরবেন শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন। অন্যদিকে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা এবং শামসুন্নাহার জুনিয়রদের সাথে আইরিন ও তহুরার অন্তর্ভুক্তি দলের গতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছিলো।
তবে মাঠে বাটলারের কৌশলের প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়েনি। উল্টো কোয়িারনদের গতি আর কৌশলের কাছে মার খাচ্ছিলো বাংলাদেশ। ছয় মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার। এদিন কৌশলে ভিন্নতার কারণে বার বার ডিফেন্সে ফাঁকা পেয়ে যাচ্ছিলো কোরিয়ান ফরোয়ার্ডরা। ১১ মিনিটেও দারুণ সেভ করেন মিলি আক্তার। শুরু থেকেই ঋতুপর্ণা চাকমাকে করা মার্কিংয়ে রেখেছেন উত্তর কোরিয়ার ডিফেন্ডাররা। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দাও বল নিজেদেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলেন না। যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিফেন্ডারদের ভুলে গোলও হমজ করেছিল বাংলাদেশ। তবে ভিএআর চেকে হ্যান্ডবলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। আগের ম্যাচের প্রথম গোলটি ভিএআর বাতিল হয়। ২৫তম মিনিটে আবারও ভিএআরে গোল বাতিল হয় উত্তর কোরিয়ার। এবার কর্নার থেকে মং ইয়াং জংয়ের হেড মিলি আক্তার ধরে ফেললে সেখানে লাথি মেরে জালে প্রবেশ করান হেন জিন হং। শুরুতে এটিকে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দিলেও পরের ভিআর সেটি বাতিল করে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন পিটার বাটলার। তহুরা খাতুনের জায়গায় উমলারা মারমা, শামসুনাহার জুনিয়রের বদলে স্বপ্না রানী ও আইরিন আক্তারের পরিবর্তে আনিকা সিদ্দিকী মাঠে নামেন। এরপরেই দুটি গোল হজম করে বাংলাদেশ। চীন ম্যাচেও প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে জোড়া গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে করেন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা মং ইয়াং জং। পরের মিনিটে কিম কং ইয়াং ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে চি উন ইয়ং ও ৬৫তম মিনিটে কিম কং ইয়াং। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে আরো এক গোল হজম করলে ব্যবধান গিয়ে দাঁড়ায় ৫-০তে।
এই হারের পর আগামী সোমবার পার্থে বাঁচা মরার লড়াইয়ে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে হবে আফঈদারা। ওই ম্যাচে জিতলে টিকে থাকবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন। তিন গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের সঙ্গে সেরা দুই দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জাগবে। চার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। পরাজিত চার দল প্লে-অফ খেলবে। প্লে-অফের জয়ীও যাবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে। হারাদেরও সুযোগ থাকবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।
