আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ই এপ্রিল

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ই এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ২৭শে জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
রায়ের দিন ধার্যের পর প্রসিকিউটর এসএম ময়নুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন। এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকের পাশাপাশি পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া প্রমাণ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। ময়নুল করিম আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর চাপ ও প্রলোভন দেয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে ওই চিকিৎসক তার জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন। এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তিন আসামি- এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আপেলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তাদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন। গতকাল আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, রেডিওগ্রাফিক বা এক্স-রে পরীক্ষায় আবু সাঈদের শরীরে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি তার গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরিহিত কালো টি-শার্টের জব্দ করা অংশে কোনো ছিদ্র ছিল না বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। ফলে গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া ৬ জন পুলিশ সদস্য লাঠিচার্জ করলেও অভিযোগপত্রে মাত্র একজনকে আসামি করায় তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আদালত ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩০। তাদের মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরীর জবানবন্দি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালের ২৫শে এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় জেআইসিতে গুম অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে আমার মোহাম্মদপুরের পাঁচতলার ভাড়া ফ্ল্যাটে যাই। পরে বাসায় বেল চাপলেও কোনো উত্তর না পেয়ে বাড়ির কেয়ারটেকারকে বলি।
পরবর্তীতে কয়েকবার কলিংবেল চাপলে আমার স্ত্রী দরজা খুলে দেয়। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বিধ্বস্ত, অসুস্থ ও শীর্ণ অবস্থায় দেখি। এরপর প্রায় এক বছর আমি বাসায় থাকি। ভয়ে কোথাও যাইনি। এছাড়া আমি গুম থাকা অবস্থায় আমার বড় দুই বোন মারা যায়। ছোট ভাই মারা যায় আমি মুক্তি পাওয়ার ৪০ দিন আগে। আমি আমার উপর যে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন করা হয়েছে এবং গুম করে রাখা হয়েছে তার বিচার চাই। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি এ সাক্ষী দেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলায় তিনি ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ইকবাল চৌধুরীকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা করার জন্য আগামী ৩০শে মার্চ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন