কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)-এর সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যার পর অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তারা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। রুনার বাবার বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলায়।
অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শান্তিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আগে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে ঢুকে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার সময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাশের কক্ষে ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থী জানান, সেদিন বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। বিকালে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তারা কক্ষ গোছগাছ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ রুনা ম্যামের কক্ষ থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শোনা যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখেন, শিক্ষিকা মেঝেতে পড়ে আছেন এবং হামলাকারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছেন। পরে পুলিশ, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ফজলুর রহমানকে কিছুদিন আগে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। রুনা ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বদলি নিয়ে তার মনে ক্ষোভ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম বলেন, ফজলুর রহমান দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারী। ম্যাডামের সঙ্গে তার পেমেন্টসহ কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তাকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যদিকে ফজলুর রহমানের পরিবারের দাবি, বিভিন্ন জটিলতার কারণে তিনি প্রায় নয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে ছিলেন। এর মধ্যেই তাকে অন্য বিভাগে বদলি করা হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। পরে ইসিজি করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, আহত ফজলুর রহমানের গলার শ্বাসনালী কেটে গেছে এবং শরীরের আরও কয়েক জায়গায় আঘাত রয়েছে। তিনি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বৃহস্পতিবার ভোরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় উপস্থিত হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
