পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালি

পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরানের

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী ইরান জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা আঘাত হানছে। এ সময়ে ইরান দাবি করেছে বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বলেছে, বিশ্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথে তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেকোনো জাহাজ সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা পথভ্রষ্ট ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, বাহিনীটির নতুন প্রধান আহমাদ বাহিদি প্রতিটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকেন এবং বাহিনীর সর্বোচ্চ লক্ষ্য সবসময়ই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী ব্যবস্থার টিকে থাকা ও তার লক্ষ্যসমূহ রক্ষা করা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গার্ডস সদস্য রেজা তালাইয়নিখ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বাহিনীর ‘স্থিতিস্থাপকতা’ তৈরির প্রচেষ্টার কথা বলেন। তিনি জানান, কমান্ড কাঠামোর প্রতিটি পদে তিন ধাপ নিচ পর্যন্ত উত্তরসূরির নাম আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত বদলি করা যায়। রাষ্ট্রীয় টিভিকে দেয়া বক্তব্যে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সিনিয়র সহযোগী মোহাম্মদ মোখবর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই এবং ‘আমরা যতদিন চাই ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারি’।

ওদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তেহরানে নতুন করে হামলার ঢেউ শুরু করেছে। এএফপি’র এক সাংবাদিক জানান, ইরানের রাজধানীর উত্তর-পূর্ব অংশে নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ডজনের পর ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। এর মধ্যে তেহরানের নিরাপত্তা কমান্ড সেন্টারগুলোও আছে এবং রাজধানীর আকাশে একটি ইরানি যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১,০৪৫ জন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে হামলা শুরুর পর প্রথম দুই দিনে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়ে চলে গেছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ইরান থেকে পরপর দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ধরা পড়ার পর জেরুজালেমে সাইরেন বেজেছে। ইরানের সঙ্গে এই আকাশযুদ্ধে ইসরাইলের অর্থনীতির ক্ষতি সপ্তাহে ২.৯৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে বুধবার ইসরাইলের অর্থ মন্ত্রণালয় এমনটাই জানিয়েছে।

ইরান মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিসর বাড়িয়েছে এবং আরও একটি মার্কিন কন্স্যুলেট ও একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। দুবাইয়ে মার্কিন কন্স্যুলেটের কাছে একটি ইরানি ড্রোন হামলা হয় এবং কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও আঘাতের শিকার হয়। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির বিশাল রাস তানুরা তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে চালানো একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে ওই কমপ্লেক্সে আগেই একবার আঘাত লেগেছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলাগুলো এসেছে এমন এক ঘটনার পর, যেখানে একদিন আগে রিয়াদ ও কুয়েত সিটিতে মার্কিন দূতাবাস, এবং বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার কথা বলা হয়। তবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন এবং তেহরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন।

এদিকে তুরস্ক একটি ঘটনায় ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। কারণ একটি ক্ষেপণাস্ত্র তুর্কি ভূখণ্ডে গিয়ে পড়েছে। ইউএই জানিয়েছে তারা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, আর কাতার জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোন ও দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন