চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ছড়া ভরাট, সরকারি রাস্তা দখল এবং পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিন পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে কারখানার সীমানা সম্প্রসারণ করায় বর্ষা মৌসুমে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে এবং এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, এলজিইডি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা কারখানার অভিযুক্ত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক পানির প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ ছড়া ভরাট করে কারখানার সীমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সরকারি রাস্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার অংশ দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এতে এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৪০০-৫০০ পরিবার দীর্ঘ সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কারখানার দূষণের কারণে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সরজমিন বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেছেন। ছড়া ভরাট এবং রাস্তা দখলের বিষয়গুলো পরিমাপ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এলাকাবাসী এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন অভিযোগে জিপিএইচ ইস্পাত পরিদর্শনে প্রশাসন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
