চীনের পর এশিয়ার আরেক পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে আফঈদাদের চাপমুক্ত রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন পিটার বাটলার। চরিত্রের সঙ্গে যায় না এমন কাজও করছেন বৃটিশ কোচ। মেয়েদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, পছন্দের খাবারও খেতে দিচ্ছেন। এসব করছেন শুধু চীনের বিপক্ষে করা পারফরম্যান্স ধরে রাখার জন্য। র্যাঙ্কিংয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের কাছে ২-০ গোলে হারলেও বাংলাদেশের খেলায় ছিল নান্দনিকতা ও সাহসিকতার ছোঁয়া। ফলাফল যাইহোক, বাটলার চাইছেন সেটাই যেন বজায় থাকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে। সিডনি ওয়েস্টার্নের কমব্যাংক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে এই ম্যাচ। অন্যরা ঘুরে ফিরে নানা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করলেও পিটার বাটলারের পছন্দ জুবিলি স্টেডিয়াম।
গতকালও সিডনির জুবিলিও স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে সরাসরি কমব্যাংক স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। সেখানে অবশ্য ম্যাচ নিয়ে আলাপের চেয়ে মাহফুজা আক্তার কিরণের সমালোচনাই বেশি করছেন এই বৃটিশ কোচ। উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সং হো’র অবশ্য ফোকাস ছিল বাংলাদেদেশর দিকে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসে চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি এবং আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষè। সাধারণভাবে বলতে গেলে, তারা বেশ দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন জানিয়ে দলটির কোচ বলেন, ‘গত কয়েক বছর আগের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল।
কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বলেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’ চীনের বিপক্ষে অল্পের জন্য গোল পাননি ঋতুপর্ণা চাকমা। তার দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন চীনা গোলরক্ষক। তাই ঋতুপর্ণাকে নিয়ে বেশ সতর্কই থাকতে হচ্ছে কোরিয়ার কোচকে, ‘আমি তাদের আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে আমি সতর্ক, যে বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তাই আগামীকালের ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’ তবে উত্তর কোরিয়ার কোচ যতোই বাংলাদেশকে সমীহ করুক না কেন পিটার বাটলারের মনোযোগ শুধু নিজেদের দিকে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি তাদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকান, তবে বুঝতে পারবেন তারাই সম্ভবত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। এ কারণে আমাদের নিজেদের সেরা ছন্দে থাকতে হবে।’
চীনা ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের চাপ মুক্ত রাখতে ফ্রি করে দিয়েছিলেন জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) কিছুটা রিকভারি ডে বা আইসক্রিম ডে। গতকাল ছিল শুধু ট্রেনিং করেছি। আমার তৈরি করা গেম প্ল্যান অনুসরণ করবে।’ আজও রূপনা চাকমার পরিবর্তে গোলপোস্টে নিচে মিলি থাকবে এটা এক প্রকার নিশ্চিতই বলা যায়। কাল সংবাদ সম্মেলনে মিলিকে নিয়ে বাংলাদেশের এই কোচ বলেন, ‘সে অনেকদিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সে যে আগে খেলেনি তার একমাত্র কারণ হলো আমাদের কোনো ম্যাচ ছিল না। চীন ম্যাচের আগে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ দিন আমাদের কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমাকে এই সিদ্ধান্তের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না। আমার মনে হয় বাংলাদেশ ফুটবলে গোলকিপিংয়ের জায়গায় বড় সমস্যা আছে, যা নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা করা আমার কাজ নয়; আমি যা করতে পারি তা হলো নতুনদের খুঁজে বের করা এবং মিলির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়ার মতো সাহসী হওয়া। সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল কারণ তার উচ্চতা আছে, হাত ভালো এবং সে দারুণ একটা চরিত্র। সবচেয়ে বড় কথা, সে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে এসেছে কারণ সে একজন সৈনিক এবং অনেকেই এই বিষয়টি জানে না। প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপে সবার উপরে আছে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশকে ২ গোলে হারানো চীন আছে পরের স্থানে। টিকে থাকতে শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে ভালো কিছুই করতে হবে আফঈদা ঋতুদের। এখান দেখার বিষয় সিনডিতে প্রবাসিদের উৎসাহ কতোটুকু নিজেদের মেলে ধরতে পারেন বাংলাদেশের মেয়েরা।
