বাশার নাকি ফের নান্নু!

বাশার নাকি ফের নান্নু!

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত রোববার প্রকাশিত সেই বিজ্ঞাপনে আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৮ই মার্চের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়। গতকাল পর্যন্ত একাধিক সাবেক ক্রিকেটার নির্বাচক হতে আবেদন করার কথা জানা গেছে। প্রধান নির্বাচক হিসেবে যার নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, সেই হাবিবুল বাশার সুমন এখন পর্যন্ত আবেদন করেননি। তবে নিশ্চিত করেছেন দু’-একদিনের মধ্যেই তিনি আবেদন করবেন।

অন্যদিকে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি এখনো আবেদন না করলেও আগামীকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে আবেদন করবেন। নান্নু বলেন, ‘এখনো আমি নির্বাচক পদের জন্য আবেদন করিনি। তবে আমার পুরনো দায়িত্বে ফেরার ইচ্ছা আছে। এ নিয়ে আমি বোর্ডের কয়েকজনের সঙ্গে শনিবার কথা বলবো। এরপর আবেদন করবো।’ এ ছাড়া এখন পর্যন্ত তুষার ইমরান, নাদিফ চৌধুরী ও নাঈম ইসলাম আবেদন করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবেদন করতে পারেন সাবেক ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভও। তবে নারী বিভাগের বর্তমান প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন বোর্ড থেকে প্রস্তাব পেলেও আবেদন করবেন না। সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম গোল্লাও আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। গুঞ্জন আছে, বেতন কাঠামো নিয়ে বিসিবি’র সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় হাবিবুল বাশার হয়তো এই দায়িত্বে নাও আসতে পারেন। যদিও এমন বিষয়কে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। বাশার বলেন, ‘বেতন নিয়ে কোনো কথা হয়নি আমার সঙ্গে। বিসিবি’র সঙ্গে এ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনাও হয়নি। আমি যেহেতু বিসিবি থেকে প্রস্তাব পেয়েছি তাই ভাবছিলাম যে আবেদন করতে হবে কিনা। যতটা জানি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। এখনো তিনদিন সময় আছে, আমি আবেদন করবো।’ মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ফের প্রধান নির্বাচকের জন্য আবেদন করতে পারেনÑএমন বিষয় নিয়ে বাশার বলেন, ‘বিসিবি তো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। যে কেউ আবেদন করতে পারেন। ক্রিকেটের জন্য যে ভালো হবে, তিনিই দায়িত্ব পাবেন।’ বর্তমানে প্রধান নির্বাচক হিসেবে এক মাসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। ৩১শে মার্চ তিনি বিদায় নেবেন। সদ্য নিয়োগ হওয়া হাসিবুল হোসেন শান্তর সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও দুজন। বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কে হবেন পরবর্তী প্রধান নির্বাচক। দীর্ঘদিন প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন নান্নু। তবে তার সময়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। পরে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে আবারো একই দায়িত্বে ফেরার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বিসিবি’র নির্বাচক প্যানেলে মোট ১৩ বছর এবং এর মধ্যে প্রধান নির্বাচক হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচক প্যানেলে সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০১৬ সালের ২২শে জুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিসিবি’র ‘চিফ কো-অর্ডিনেটর অব প্রোগ্রামস’ হিসেবে কর্মরত আছেন। তার সময়ে বাংলাদেশ দলের বেশ কিছু সাফল্য থাকলেও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।

অন্যদিকে তুষার ইমরান বর্তমানে কোচ হিসেবে কাজ করছেন। হঠাৎ নির্বাচক হওয়ার আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে কোচিং পেশাটি আমি দারুণ উপভোগ করছি। তবে ভাবলাম কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনা যায় কিনা। আমি তো দীর্ঘদিন মাঠে ছিলাম, সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে পারবো। বিসিবি’র সঙ্গে আলোচনা করেই আবেদন করেছি।’ এ ছাড়া নির্বাচক পদে আবেদন করে বেশ আশাবাদী নাদিফ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি এইজ গ্রুপে নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করছেন। নাদিফ বলেন, ‘আমি তো এখন এইজ গ্রুপে নির্বাচক হিসেবে কাজ করছি। দুই বছরে আমার এ নিয়ে অভিজ্ঞতাও কম হয়নি। আর আমি মাঠও খুব বেশি দিন হলো ছাড়িনি। তাই পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের খুব ভালোভাবেই চিনি। যদি বিসিবি আমাকে বিবেচনা করে, আমি প্রস্তুত আছি।’ তবে শামসুর রহমান শুভ জানিয়েছেন, তিনি এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। শুভ বলেন, ‘আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি নির্বাচক হতে আবেদন করবো কিনা। তবে আরও তিনদিন আছে, দেখি আলোচনা করে আবেদনও করতে পারি।’ হাবিবুল বাশার সুমন বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিসিবি’র গেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি নারী উইংয়ের প্রধান হিসেবেও কাজ করেন। সব মিলিয়ে নির্বাচক প্যানেলের চূড়ান্ত রূপরেখা কী হবে, তা জানতে এখন বিসিবি’র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

৮ই মার্চ আবেদনের সময়সীমা শেষ হলে বোঝা যাবে কারা থাকছেন এই দৌড়ে। তবে অভিজ্ঞ বাশার ও নান্নুর সম্ভাব্য লড়াই ঘিরেই এখন সব কৌতূহল আবর্তিত হচ্ছে। লিপুর উত্তরসূরি হিসেবে কে মসনদে বসেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন