প্রথমবার শিরোপায় চোখ নিউজিল্যান্ডের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

প্রথমবার শিরোপায় চোখ নিউজিল্যান্ডের

ফন্ট সাইজ:

ইডেন গার্ডেনসের গ্যালারিতে তখনো ফিন অ্যালেন নামের এক ঘূর্ণিঝড়ের রেশ কাটেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনা করে ৩৩ বলে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন এই কিউই ওপেনার। বুধবার রাতে প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ শেষে যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন তখন অ্যালেনের চোখে-মুখে ইতিহাস গড়ার তৃপ্তি আর আগামী রোববারের ফাইনাল নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ১৭০ রানের লক্ষ্য কিউইরা টপকে যায় ৪৩ বল হাতে রেখেই। এমন বিধ্বংসী জয়ের পর অ্যালেন মনে করছেন, এই জয় তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বড় এক জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্বকাপের ঠিক আগেই ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে নিউজিল্যান্ড। সেই সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারলেও অ্যালেনের মতে, সেটিই ছিল তাদের আসল প্রস্তুতি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ভারতের মাটিতে খেলা ওই সিরিজের গুরুত্ব এখন বোঝা যাচ্ছে। সব ম্যাচই হয়েছিল ব্ল্যাক সয়েল বা কালো মাটির পিচে। আমার মনে হয়, ওই সিরিজটিই আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ নক-আউট ম্যাচগুলোতে লড়াই করার রসদ জুগিয়েছে।’
ওপেনিং জুটিতে টিম সিফার্টের সঙ্গে ১১৭ রান যোগ করেন অ্যালেন। শুরুতে সিফার্টই ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। ২১ বলে ৪১ রান করে সিফার্ট যখন প্রোটিয়াদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন, অ্যালেন তখন অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে স্রেফ দর্শক। সিফার্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘টিম্মির (সিফার্ট) সঙ্গে ব্যাটিং করাটা জীবন সহজ করে দেয়। ও অসাধারণ ফর্মে আছে এবং পুরো বিশ্বকে দেখাচ্ছে ও কী করতে পারে। ও যখন মারছিল, তখন আমি উইকেটে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার জন্য মাঠের সেরা সুযোগটি পেয়েছিলাম। ওর সঙ্গে ব্যাটিং করাটা দারুণ মজার।’
নিউজিল্যান্ডের সময় অনুযায়ী ম্যাচটি মাঝরাতে শুরু হয়। ফাইনালও শুরু হবে সোমবার ভোরে। অ্যালেন জানেন, তার এই কীর্তি দেখার জন্য পুরো দেশ জেগে ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আমার বাবা-মা সারা রাত জেগে খেলা দেখেছেন। আশা করি তারা আমাকে নিয়ে গর্বিত। দেশের মানুষও নিশ্চয়ই আমাদের এই সাফল্যের খবর রাখছেন। ফাইনালটি হয়তো কাজের দিন সোমবার ভোরে পড়বে, তবে আমি আশা করি সবাই কাজ থেকে ছুটি নিয়ে হলেও আমাদের জন্য গলা ফাটাবে।’

সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত চলতি আসরে অপরাজিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অ্যালেন। তিনি বলেন, ‘ওরা আসরের ইন-ফর্ম দল ছিল। ওদের লম্বা ও গতিশীল বোলাররা সব সময়ই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। ওদের বিপক্ষে এমন জয় রোববারের ফাইনালের আগে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’ আগামী রোববার আহমেদাবাদে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে কিউইরা। অ্যালেনের ব্যাটে এখন কেবল একটিই সুর- প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের হয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন