দেশের টেবিল টেনিস অঙ্গনে এক আনন্দবার্তা এসেছে। বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি এবং গিনেস রেকর্ডধারী অ্যাথলেট জোবেরা রহমান লিনু গতকাল ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বছর লিনুসহ মোট ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে জন্ম হওয়া লিনুর টেবিল টেনিস যাত্রা শুরু হয় বাবার অনুপ্রেরণায়। সিলেটের শাহাজীবাজার অফিসার্স ক্লাবে মাত্র আট বছর বয়সে ব্যাটে-বলে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। সেই যে শুরু, এরপর কেবলই সামনে এগিয়ে চলা। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে চমকে দেন। ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে তিনি মোট ১৬ বার জাতীয় নারী সিঙ্গেলস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন লিনু। টেবিল টেনিসে তার এই অজেয় রেকর্ড ২০০২ সালে লিনুকে তুলে দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলেন। এর আগে ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারেও ভূষিত হন। শুধু দেশের মাটিতেই নয়, বিদেশের মাটিতেও লিনু উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৮০ সালে এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম স্থান অর্জন এবং ১৯৮২ সালে ভারতের হায়দরাবাদে পেন্টাঙ্গুলার চ্যাম্পিয়নশিপের মিক্সড ডাবলসে রানার্সআপ হওয়া তার ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি। এ ছাড়া বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপেও একাধিকবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনের পাঠ চুকিয়ে লিনু নিজেকে জড়িয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে। বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) অ্যাথলেট কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দক্ষতা দেখান। তার এই প্রাপ্তিতে গতকাল অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন।
স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন জোবেরা রহমান লিনু
স্পোর্টস রিপোর্টার
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
