ইডেন গার্ডেনসে তখন এক অবিশ্বাস্য নিস্তব্ধতা। এমন নিস্তব্ধতা কেবল বড় কোনো ইতিহাস গড়ার পরই নামে। ফিন অ্যালেন হয়তো নিজেও পুরোপুরি বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটে গেছে। বুধবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ড যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছালো, তখন স্কোরবোর্ডে উজ্জ্বল অ্যালেনের ৩৩ বলের সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই দশকের ইতিহাসে এর চেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি নেই আর কারও।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা চার ইনিংসে ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে পারেননি ফিন অ্যালেন। সেই ক্ষত পুষিয়ে দিলেন সেমিফাইনালের মঞ্চে। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে উপহার দিলেন বিধ্বংসী ইনিংস। এতে নিউজিল্যান্ডের ডানহাতি ওপেনারের নাম খোদাই হয়ে গেছে রেকর্ড বইয়ের পাতায়। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো ৩৩ বলের এই সেঞ্চুরি পুরুষ ও নারী- উভয় বিশ্বকাপের দ্রুততম। এর আগে ২০১৬ সালে ক্রিস গেইলের ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড গড়েন। এমনকি জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজার সঙ্গে যৌথভাবে আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও এটি দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরিও এখন অ্যালেনের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলারের ৩৫ বলের শতরান ছিল আগের রেকর্ড। সেমিফাইনালের মতো স্নায়ুচাপের ম্যাচে অ্যালেনের ১৯ বলের ফিফটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের ইতিহাসে দ্রুততম। যুবরাজ সিংয়ের ২০ বলের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যালেন এখন নতুন চূড়ায়। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি। অ্যালেনের এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পেছনে ছিল দারুণ এক কৌশল। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে লুঙ্গি এনগিডির বলে তিনি উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে একটি চমৎকার ‘র্যাম্প শট’ খেলেন। এই শট নিয়ে অ্যালেন মজার এক তথ্য শেয়ার করেন। গ্রুপ পর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে বড় জুটির সময় তিনি তার ওপেনিং পার্টনার টিম সিফার্টকে বলেছিলেন, তিনি সিফার্টের র্যাম্প শটটি ‘চুরি’ করবেন। বুধবারের ম্যাচে দেখা গেল সেই শটেই বাজিমাত। নিজের মোট রানের প্রায় ৩৫ শতাংশই তিনি তুলেছেন উইকেটের পেছনে শট খেলে। অ্যালেন বলেন, ‘আমি আর টিম ব্যাটিংয়ের সময় পরিকল্পনা খুব সহজ রাখি। বল দেখে প্রতিক্রিয়া জানাই এবং সোজাসুজি শট খেলার চেষ্টা করি।’
অ্যালেন ও সিফার্টের ঝড়ে এদিন পাওয়ারপ্লেতে ৬ ওভারে ৮৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে যা
সর্বোচ্চ এবং নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসেই সেরা পাওয়ারপ্লে। ১১৭ রানের এই জুটির সুবাদে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪৬৩ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই যুগল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান পূর্ণ করা জুটিগুলোর মধ্যে ১০.৯৫ রান রেট নিয়ে তারাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততর জুটি।
অ্যালেন এক ম্যাচে ১৮টি বাউন্ডারি মেরে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের রেকর্ড স্পর্শ করেন। আর বাউন্ডারি থেকেই তুলেছেন ৮৮ রান, যা বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে এবারের আসরে তার ছক্কার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০-এ। বিশ্বকাপের এক আসরে ২০টি ছক্কা মারার কীর্তি এর আগে কারও ছিল না। বিশ্বকাপের মঞ্চে ষষ্ঠবারের চেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলো নিউজিল্যান্ড। কিউইদের এই জয়ের পর বাংলাদেশই এখন একমাত্র দল যারা কোনো প্রতিপক্ষের (ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া) বিপক্ষে অন্তত পাঁচবার খেলেও জয়হীন। তবে আইসিসি আসরের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা যেন নিউজিল্যান্ডের পয়া প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে চারবার নকআউটে দেখা হলো, প্রতিবারই প্রোটিয়াদের বিদায় করে দিলো কিউইরা।
সিফার্টের শট ‘চুরি’ করে সফল অ্যালেন!
স্পোর্টস ডেস্ক
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
