কলাপাড়ায় খালে ঢুুকছে লোনা পানি, বিপাকে কৃষকরা

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের চার শতাধিক কৃষক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের ব্যবহৃত জবান খাঁর খালে লোনা পানি প্রবেশে দূরাবস্থা হয়েছে। খালের পানির ওপর ভরসা করে কয়েকশ’ একর জমিতে বোরো ধান, তরমুজ, আলু, সরষে, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষিদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সরজমিন জানা যায়, খালের পানি মিষ্টি থাকলেও একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আঁধারে চার ভেন্টের সøুইসগেট খুলে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খালটিতে লোনাপানি উঠিয়ে নষ্ট করেন কৃষকের ফসল। সেইসঙ্গে ধ্বংস করে দেন দরিদ্র কৃষকের পরিশ্রমে গড়া স্বপ্ন। খালের মধ্যে ঢুকানো নদীর পানি এতটাই নোনা যে, ওই পানির ছিটেফোঁটা গাছে লাগলেই গাছ মারা যায়। নিত্যদিনের কাজের জন্য ব্যবহারের পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুকে খাওয়ানোর পানিও নেই। লোনা পানি খেয়ে ইতিমধ্যে শতাধিক হাঁস মারা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই এলাকার বিলের মধ্যে ছোট-বড় অনেক খাল রয়েছে। প্রায় সবক’টিই জবান খাঁর খালের শাখা। এসব খাল বর্ষা মৌসুমে মিষ্টি পানিতে ভরা থাকে। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় চাষিরা লাভবান হতেন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে লোনা পানি প্রবেশ করার কারণে পানি আর সেচকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান জানান, খালে হঠাৎ করে লোনা পানি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ফলে তার ওই পানি খাওয়ায় তার ২২টি হাঁস মারা গেছে। একটি প্রভাবশালী মহল সøুইসগেট খুলে তাদের এমন ক্ষতি করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে সøুইস গেটের সামনে অস্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলা একটি কুচক্রীমহল বাঁধ কেটে দেয়ায় লবণ পানি ভেতরে প্রবেশ করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেবেন।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন