ঢাকার নবাবগঞ্জে সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে মো. হুমাযুন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন। বিষপানের পর ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের বোন জারমিন বাদী হয়ে স্থানীয় সুদি ব্যবসায়ী তমিজুদ্দিন খানকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। নিহত হুমায়ুন উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মৃত পরাণ খানের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক প্রয়োজনে হুমায়ুন তমিজুদ্দিনের কাছ থেকে সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তমিজুদ্দিনকে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার পরিশোধ করেন হুমায়ুন। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না সুদি ব্যবসায়ী তমিজুদ্দিন। তিনি হুমায়ুনের কাছে আরও টাকা দাবি করে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ করে ২৫ হাজার দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন বিচারকরা। তবে এতে রাজি না হয়ে তমিজুদ্দিন আরও ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দাবি করে হুমায়ুনকে চাপ দিতে থাকে। হুমায়ুনের বোন জারমিন অভিযোগ করে বলেন, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সুদের টাকার জন্য তার ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তমিজুদ্দিন। এ সময় সে জানায়, ‘মরলেই টাকার দাবি ছেড়ে দিবে’। অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে ঘাস মারার বিষ পান করেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিসাৎ শেষে বাসায় আসেন হুমায়ুন। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অসুস্থ থাকাবস্থায়ও টাকার জন্য তমিজুদ্দিন চাপ দিত। এ ঘটনার পর থেকে তমিজুদ্দিন পলাতক রয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
নবাবগঞ্জে সুদের টাকার চাপে বৃদ্ধের আত্মহত্যা
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
