নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন- রূপগঞ্জে হয় আমি থাকবো, না হলে মাদক কারবারিরা থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। গত মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, শিল্পসমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক একটি সুন্দর এলাকা হিসেবে রূপগঞ্জের সুনাম রয়েছে। কিন্তু কিছু মাদক কারবারির কারণে এ এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দেশের মানুষ রূপগঞ্জকে ভিন্নভাবে দেখছে। তিনি বলেন, রূপগঞ্জের কোনো মাদক কারবারি যদি তার আপন ভাইও হয়, তবুও তাকে যেন একবিন্দু ছাড় না দেয়া হয়। মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। এ বক্তব্যের পরপরই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতভর দেশের অন্যতম বৃহৎ মাদক ও ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০ পুরিয়া গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবাসহ ৪ জন নারী-পুরুষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সেনাবাহিনী ও র্যাব’র অভিযানেও বিপুলসংখ্যক মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এবং জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় রূপগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে গত ৭২ ঘণ্টা ধরে টানা অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত অবধি চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এএসপি মেহেদী ইসলাম আরও জানান, গত তিনদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রূপগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রূপগঞ্জে হয় আমি থাকবো, না হলে মাদক কারবারিরা থাকবে: দিপু
স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে
৬ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
