গৌরীপুরে ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবি

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাংবাদিক শামীম হোসেনের অর্ডার করা চপাল মেশিন জোরপূর্বক দাবি করে এক ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীকে মারধর, রক্তাক্ত জখম এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাক্তার আমানের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাত ১১টার দিকে পৌরসভার হারুন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সেলিম মিয়া (৩৭) বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিবাদীরা হলেন- হারুন পার্ক পূর্ব লাইন এলাকার ডা. মো. আমান উল্লাহ (৩৮), নয়াপাড়ার মো. শাহীন মুন্সি (৪৫) এবং কচিকাঁচা এলাকার বিজয় দাস (২৪)। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম মিয়া গৌরীপুর পাট বাজার মোড়ে একটি মাশ-আল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। সেই ওয়ার্কশপে সাংবাদিক শামীম হোসেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘সাইলেজ চপার’ মেশিন তৈরির অর্ডার দেন এবং ২ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় টাকার স্লিপ ছাড়াই ওই মেশিনটি তাদের দিয়ে দেয়ার জন্য সেলিম মিয়াকে চাপ দিচ্ছিলেন। গত রোববার রাতে ৩ নং বিবাদী বিজয় দাস কৌশলে সেলিম মিয়াকে হারুন পার্কের সামনে ১ নং বিবাদীর চেম্বারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বিবাদীরা পুনরায় স্লিপ ছাড়া মেশিন দাবি করলে সেলিম মিয়া তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা তাকে জাপটে ধরে এবং ২ নং বিবাদী শাহীন মুন্সি সেলিম মিয়ার বাম চোখের উপরে ঘুসি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। সেলিম মিয়া জানান, তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে বিবাদীরা তাকে জোরপূর্বক চেম্বারের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে ৩০০ টাকা মূল্যের একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়। বিবাদীরা হুমকি দেয় যে, মেশিন না দিলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে টাকা আদায় করা হবে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও প্রদান করে। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন আমাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। ভুক্তভোগী জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে শামীম হোসেন জানান, আমি মেশিন অর্ডার করে ২ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেছি। ওয়ার্কশপের মালিক মো. সেলিম মিয়ার কাছ থেকে রিসিটও নিয়েছি। বাকি ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে মেশিনটি নেয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমান উল্লাহকে কয়েকবার ফোন দেয়ার পরে রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে রাখে। আমান উল্লাহর অন্য নম্বরে দুইবার কল করার পরেও কল রিসিভ করেনি। শাহীন মুন্সি জানান, আমি গত বছর মসজিদে এতেকাফে ছিলাম। তখন সেলিম আমানের কাছে টাকা চায়। কিন্তু আমান আমার কথা ছাড়া টাকা দিবে না। সেজন্য আমার কাছে আসে। আমি আমানকে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলি। গৌরীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহউদ্দিন করিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন