নাগেশ্বরীতে ব্রিজের অভাবে কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি

নাগেশ্বরীতে ব্রিজের অভাবে কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি

ফন্ট সাইজ:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলাপাড় থেকে কচুয়ারপাড়-মাদাইখাল সংযোগ সড়কটিতে নির্মাণাধীন ডুবুরীরখাল ব্রিজটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিধ্বস্ত রয়েছে। পুনঃনির্মাণ না করায় ভোগান্তিতে রয়েছে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভাঙা ব্রিজের উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী করে তোলা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পাটাতন সংস্কার না করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এখানে একটি নতুন টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একই জায়গায় পর পর দু’টি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় নির্মাণের ২-৩ বছরের মধ্যে ব্রিজ দু’টি বন্যার সময় তীব্র স্রোতে দেবে যায়। এরপর ব্রিজটি নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামায়নি। ফলে দু’পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ বন্যা ও বর্ষার সময় চরম ঝুঁকির মধ্যে পারাপার করছেন। এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসেম আলী জানান, ব্রিজটি দিয়ে ঠিকমতো আমরা হাঁটতেও পারি না। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাটাতনের উপর দিয়ে অটো চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, সার, ধানচাল পরিবহনে আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। কৃষক রমেশ চন্দ্র জানান, আমরা এমন একটা জায়গায় বসবাস করি যেকোনো প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করতে পারি না। বন্যার সময় কাঠের পাটাতনটি ভয়ঙ্কর অবস্থায় থাকে। যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এই পাটাতনের সেতু পার হয়ে অনেক কষ্ট করে স্কুলে যাতায়াত করে। এখানে একটি ব্রিজ হলে আমাদের কষ্ট অনেক লাঘব হবে। ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৬ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রিজটি বন্যায় ভেঙে পড়ে। এখানে একটি গার্ডার ব্রিজের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এই জনপ্রতিনিধি। ধসে পড়া ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলে জামতলা ও কচুয়ারপাড় এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকবে এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন