নিখোঁজের ৪ দিন পর ঝোপের ভেতর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের চারদিন পর রেললাইনের পাশের ঝোপের ভেতর থেকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ৮টায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় রেললাইনের পাশের ঝোপ থেকে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলমগীর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সর্দারের ছেলে ও জনতা ব্যাংক ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তার শ্বশুরবাড়ি ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়া গ্রামে। জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে তিনি ভৈরবের আদর্শপাড়া গ্রামের তাসলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। স্ত্রী ভৈরবের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা কালিকাপ্রসাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আলমগীর অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হলে এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়রা ঝোপের মধ্যে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ভৈরব থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশ থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। বোতলে বিষজাতীয় পদার্থ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই আল আমিন বলেন, আমার বোনের সঙ্গে আলমগীরের কোনো কলহ ছিল না। আমার ছোট বোন জামাই আমাদের অভিযোগ করে বলেছিল তাকে কে বা কারা ব্ল্যাকমেইল করছে। তাকে কেউ মেরে ফেলতে পারে। যেখান থেকে আলমগীরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে তাকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেখে আমরা বুঝেছি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই ওহাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা পাঁচভাই দুই বোন। সবাই সরকারি চাকরিতে রয়েছি। আলমগীর ২০০৭ সাল থেকে ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করেছে। সে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চাকরি করতো। হঠাৎ ব্যাংকে চাকরি নিয়েছে। বিয়ে করেছে ভৈরবে স্ত্রীও চাকরি করে ভৈরবে তাই চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে এখানে থাকে। আমার ভাই কখনো বলেনি সে কোনো রকম বিপদে আছে। মৃত্যুর পর ভৈরবে এসে শুনেছি কোনো একটা চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, তার নিখোঁজের ঘটনায় গত ১লা মার্চ ভৈরব থানায় একটি জিডি হয়। পরে পুলিশ গত বুধবার সন্ধ্যায় রেললাইনের পাশের ঝোপের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া যায়। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে যতটা জেনেছি সে ফাস্টেশনে ভুগছিল। প্রাথমিক ধারণা ফাস্টেশন থেকেও সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা বলে জানান তিনি।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন